বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

বগুড়া শেরপুরের ইউএনও’র পদক্ষেপ : শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেল জুয়েল

আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে সৎ মা এভাবেই শিকলবন্দী করে রাখে জুয়েলকে। পরে ইউএনও’র পদক্ষেপে মুক্ত হয়। ইনসেটে উদ্ধারকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ। বগুড়ার শেরপুরে সৎ মা এভাবেই শিকলবন্দী করে রাখে জুয়েলকে। পরে ইউএনও’র পদক্ষেপে মুক্ত হয়।

ইনসেটে উদ্ধারকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ। বাড়ির বারান্দায় শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে শিশু জুয়েলকে। চুরির অজুহাতে সপ্তাহ খানেক ধরে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা শিকলে বন্দী করে রাখা হয় তাকে। সৎ মায়ের এমন নিষ্ঠুর আচরণে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিশুটি।

শুধু মায়াভরা দুটি চোখ দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে এদিক ওদিক তাকিয়ে থাকেন। এভাবেই সুস্থ-স্বাভাবিক ওই শিশুটিকে পাগল বানানোর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন সৎ মা মমতা বেগম। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি শিকলবন্দী জীবন থেকেও শিশুটিকে মুক্ত করা হয়।

আর এই ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া কলোনী গ্রামের। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের মাহবুব শেখের ছেলে জুয়েল রানা। বাবা ঢাকায় দিনমজুরির কাজ করেন। যে টাকা আয় করেন তা দিয়েই সংসার চলে।

তাই লেখাপড়া ছেড়ে ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন শিশু জুয়েল। কিন্তু দোকান থেকে টাকা চুরি করেছে-বলে তার পরিবারের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত সৎ মা মমতা বেগম।

এমনকি এই সুস্থ-স্বাভাবিক শিশু ছেলেটিকে পাগল বানিয়ে স্বামীর বসতবাড়ি নিজের ও সন্তানের নামে নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় সে। এরই ধারাবাহিকতায় চুরির অজুহাত ও মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে শিশুটির হাত-পায়ে শিকল লাগিয়ে বেধে রাখা হয়। এরপর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ বাড়ির বারান্দায় শিকলবন্দী জীবন কাটছিল তার। তবে বিষয়টি প্রতিবেশি লোকজন জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানান। এরপর শুরু হয় তোলপাড়।

একপর্যায়ে গত বুধবার (১০জুন) রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ । এবং শেরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিকলে বেধে রাখা ওই শিশুটিকে মুক্ত করেন তিনি। বাগড়া কলোনী এলাকার ব্যবসায়ী রানা আহমেদ ও ইব্রাহীম হোসেন জানান, শিশু জুয়েল একজন ভালো ছেলে বলেই জানি। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে কোন অভিযোগ শুনিনি। শিশুটির নিজের মা নেই। বাবাও ঢাকায় থাকেন। তাই ঠিকমতো তার খোঁজখবর নেয়ার লোক নেই। সৎ মা থাকলেও শিশুটিকে দেখতে পারেন না। এমনকি প্রায় সময়ই তাকে অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়ে থাকে।

এরইমধ্যে হঠাৎ জানা গেল শিকল দিয়ে তাকে বেধে রাখা হয়েছে। ছোট-খাটো ভুল করলে তাকে বুঝিয়ে বললেই শুনতো। কিন্তু শিশুটিকে নিয়ে তার সৎ মা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যার কারণে চুরির অজুহাতে তাকে শিকলবন্দি করে পাগল বানানোর পায়তারা চালানো হয় বলে তারা দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি অমানবিক ও খুবই কষ্টদায়ক। তাই বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। শিকলবন্দী জীবন থেকে ওই শিশুটিকে মুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি