সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

করোনা দুর্যোগে শ্রীনগরে যেখানে সেখানে পশুর হাট চায় না সচেতন মহল

এম, এ কাইয়ুম, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) বৈশ্বিক মহামারীতেও আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানীর পশুর হাটগুলো ইজারা নিতে প্রস্তুতি চলছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে এখনও কোন ঘোষনা না আসলেও স্থানীয় ইজারাদাররা হাটগুলো ইজারা নেওয়ার আশায় প্রহর গুনছে এমনটাই জানা যায়। তবে সচেতন মহল মনে করেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইজাদাররা পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে হাটের কার্যক্রম চালাতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের ইজারাকৃত মোট হাটের বাইরেও উপজেলার পাটাভোগের ফৈনপুরে খালপাড়ে, শ্রীনগরের বটতলায়, বাড়ৈখালীর শিবরামপুরে, কুকুটিয়া স্কুল মাঠে, আটপাড়ার বাড়ৈগাও বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ইজারাকৃত হাটে গরুছাগল আনার নামে ছোট পরিসরে বসানো হয়েছিল হাট। এতে করে বৈধ ইজারাকৃত হাটগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

অন্যদিক সরকারী রাজস্ব আয়করও ফাঁকি দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতে করোনা সংক্রমন এড়াতে যেখানে সেখানে এসব ছোট পরিসরে বসা পশুর হাটগুলো বন্ধ রাখার দাবী জানা স্থানীয় সচেতন মহল। সুধী মহল মনে করেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন করোনা রোধে যেখানে সেখানে গরু ছাগল কেনা বেচার হাটগুলো বন্ধ করতে হবে। না হয় জনসমাগমের জায়গায় গুলোতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের আশংকা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

সমিক্ষায় দেখা যায়, গত ২০১৯ সালে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৪টি অস্থায়ী গরুর হাট ইজারা দেয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়া উপজেলার দেউলভোগ বাজারও উপজেলার একমাত্র নিয়মিত গরুর হাট বিরাট হাট রয়েছে। প্রতি বছর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঈদুল আযহা উপলক্ষে ব্যাপক কোরবানীর গরু কেনাবেচা হয়ে থাকে এ ঐতিহ্যবাহী হাট থেকে। দেউলভোগ হাটের ইজাদার জহিরুল হক নিশাত সিকাদার বলেন, বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে উপজেলা প্রশাসনের দিক নিদের্শনা মেনে কোরবানীর পশুর হাটে গরু ছাগল বিক্রি হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে এ হাটে যেমন রয়েছে বিশাল জায়গা তেমনি স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্ততি। করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে কোন প্রকার অসাবধানতা চলবে না। আগ্রহী ক্রেতাগন যাতে সুন্দর পরিবেশে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তাদের পছন্দের গরু কিনে নিতে পারেন, সেই লক্ষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এই হাটে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বিগত বছর অস্থায়ী হাটের মধ্যে ভাগ্যকুুল. কেদারপুর হাট, কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ভাগ্যকুল মান্দ্রা, হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বেলতলী জি জে উচ্চ মাঠে ও বাঘড়ার হাট পদ্মা নদীর তীরে বসানো হয় পশুর হাট।

একটি সুত্র জানায় ২০১৯সালের আগে কেদারপুর, মান্দ্রা ও বাঘড়া অস্থায়ী পশুর হাট গুলো নামে মাত্র ইজারা নিয়ে বাণিজ্য করে আসলে ছিল সিন্ডিকেট মহল। গত বছর উপজেলার ভাগ্যকুল ও বাঘড়া এলাকায় হাট ডাকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে এলাকায় গ্রুপিং। এতে করে হামলা দাওয়া পাল্টা দাওয়াসহ পাল্টাপাল্টি অভিযোগও গ্রæপগুলোর একে অপরের প্রতি । গরু ছাগল হাটকে কেন্দ্র করেও অভিযোগ রয়েছে। পদ্মা নদী থেকে পাইকারদের গরু বোঝাই ট্রলার পাইকারদের পছন্দ মত হাটে না যেতে দিয়ে আটক করে ভাগ্যকুল এলাকার হাটে নিতে বাধ্য করতেন হাট সিন্ডিকেট। এসব ঘটনায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে ইতিপূর্বে।

ঈদুূল আযহা উপলক্ষে কোরবানীর পশুরহাট প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, অবৈধভাবে যারা কোরবানীর পশুরহাট তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশুর হাটে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পরিচালনার জন্য নিদের্শ দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি