সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

সড়ক নিরাপত্তা : প্রয়োজন সমন্বয় ও সচেতনতা – মো. আবু নাছের

আজ ২২ অক্টোবর, নিরাপদ সড়ক দিবস। দেশব্যাপী ষষ্ঠবারের মতো দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে আলোচনাসভা, র‌্যালি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোও দিবসটি পালন করছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বব্যাপী একটি অন্যতম প্রধান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জনস্বাস্থ্যগত সমস্যা। যদিও সব দেশেই কমবেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, তথাপি দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টাও চলছে অবিরাম। তবুও সড়ক-মহাসড়কে ঘটছে মূল্যবান প্রাণহানির ঘটনা। এ প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনার। কথায় বলে, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। সড়ক দুর্ঘটনায় যিনি মৃত্যুবরণ করেন তার পরিবারকে দীর্ঘকাল ধরে বয়ে বেড়াতে হয় দুঃসহ যন্ত্রণা। আর যারা প্রাণে বেঁচে যান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়ে, তাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। বেঁচেও তারা ভোগ করেন মৃত্যুসম যন্ত্রণা। কর্মশক্তি হারিয়ে পরিবার ও সমাজের জন্য হয়ে যান বোঝা। তাই নিরাপদ সড়কের দাবি যেমন দিন দিন জোরালো হচ্ছে, তেমনি এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রয়াসও হচ্ছে শক্তিশালী। তবে হ্যাঁ, এর মধ্যে কিছু দুর্ঘটনা একটু সচেতন হলে, ট্রাফিক আইন মেনে চললে আমরা এড়াতে পারি। কিছু ঘটনাকে যেমনি দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকা- বলা যায় আবার কিছু ঘটনাকে বলা যায় স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দেওয়া।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। আশার কথা হলো, নানামুখী প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস এবং অংশীজনদের সহযোগিতায় মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমে এলেও আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা এবং গ্রামীণ সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে। তুলনামূলকভাবে বড় গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ কমলেও ছোট গাড়ি বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে এবং প্রাণহানি ঘটছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত সর্বশেষ হেলথ্ র‌্যাংকিং অনুসারে একশ তিরাশি দেশের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহারে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। এ মৃত্যুহার প্রতি লাখে ১৬ দশমিক ৭৪ জন। রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান ও ভারতের অবস্থান যথাক্রমে ৭২, ৮২, ৮৫ ও ৯০তম। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৩তম। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ লোক দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এগারো লাখেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এআরআইর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অর্থোপেডিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মোট রোগীর শতকরা ছাপ্পান্ন ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর শতকরা ষাট ভাগই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, যাদের বয়স ষোলো থেকে পঁয়তাল্লিশ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনায় শুধু ব্যক্তির জীবনহানিই ঘটে না বরং পারিবারিক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয় এবং সমাজ ও রাষ্ট্র তার অবদান থেকে বঞ্চিত হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনাকে সময়ের বড় দুর্ভাবনা বলে উল্লেখ করে থাকেন। তাই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এনে নিরাপদ ও ভ্রমণবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত ইউএন ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটির আওতায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও এর ক্ষতি হ্রাসে এরই মাঝে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রণয়ন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। আইনটির কঠোরতা অক্ষুণœ রেখে সম্প্রতি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের কাজও শেষপ্রান্তে। প্রতিপালন করা হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় দফা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সতেরো দফা নির্দেশনা। নিরাপদ সড়কবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ এবং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কাউন্সিল অনুমোদিত একশ এগারোটি সুপারিশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছে একটি টাস্কফোর্স। বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে জাতীয় মনিটরিং কমিটি। এ কমিটি সড়ক নিরাপত্তা ছাড়াও যানবাহনে শিশু ও নারীদের হয়রানি বন্ধেও কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী যানবাহন চালকদের জন্য প্রথম পর্যায়ে চারটি সড়ক-বিশ্রামাগারের দুটির কাজ শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য অনেক সময় সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ-ত্রুটিকে দায়ী করা হয়। ত্রুটি অপসারণের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই মাঝে গৃহীত প্রকল্পের আওতায় এসব বাঁক ঝুঁকি প্রবণতা হ্রাস করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক মোহনা ঝুঁকিমুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সাইন-সিগনাল ও রোড মার্কিং স্থাপন, বাস-বে নির্মাণসহ ঝুঁকিপূর্ণ করিডরের উন্নয়নে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্প। সড়ক নিরাপত্তা বিধানে সড়ক-মহাসড়কের স্থায়িত্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে সরকার অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করেছে ওজন স্কেল। দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে আরও আটাশটি ওজন স্কেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সড়কের পাশে যত্রতত্র বাস থামানো বন্ধে পরিকল্পিত বাস স্টপেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত গতিরোধক অপসারণ করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গবেষণাকাজে প্রত্যেকটি দুর্ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চালু করা হয়েছে রোড সেফটি অডিট।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার মহাসড়কগুলোয় পর্যায়ক্রমে চার বা ততোধিক লেনে উন্নীত করার কাজ করছে। মহাসড়কে বিভাজক স্থাপনের ফলে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বর্তমানে প্রতিটি মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন নির্মাণ করা হচ্ছে। মহাসড়কে ছোট আকারের যানবাহন দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে, তাই সরকার বাইশটি জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে। এতে সুফল মিলেছে। তবে মহাসড়কে নন-মোটরাইজড যান চলাচল বন্ধে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রতিপালন করা জরুরি। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ গঠন এবং এর জনবল বাড়ানো হয়েছে। তবে মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশের, বিশেষ করে স্পিডগান, অ্যালকোহল ডিটেক্টরসহ লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো সময়ের দাবি। দুর্ঘটনা হ্রাসে সরকার ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যানবাহনের অবস্থান, গতি, ট্রাফিকের পরিমাণ, ভ্রমণ সময়, গাড়ি চালকের অবস্থান মনিটরিং করার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম-আইটিএস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় পেশাদার গাড়িচালকদের লাইসেন্স নবায়নে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পেশাদার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় ডোপটেস্ট করা হচ্ছে। গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে উপজেলা পর্যায়ে। নারী গাড়িচালক তৈরির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এরই মাঝে অধিকসংখ্যক মোটর ড্রাইভিং ¯ু‹লের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোটরযানের ফিটনেস সনদ দেওয়া হচ্ছে। গাড়িচালকদের লাইসেন্স এবং যানবাহন রেজিস্ট্রেশনে জালিয়াতি বন্ধে বায়োমেট্রিক্সসমৃদ্ধ স্মার্টকার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে বিআরটিএর পরিবহন সেবায় এসেছে পরিবর্তন। গ্রাহকরা অনেক সেবা এখন অনলাইনে ঘরে বসে বিনা ভোগান্তিতে পাচ্ছেন।

ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফেরার জন্য নাগরিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তায় পথচারী তথা সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজের নিরাপত্তায় যানবাহন চালানো অবস্থায় সিটবেল্ট বাঁধা এবং চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।

সম্প্রতি পরিবহনে নারীদের হয়রানি এবং তাদের প্রতি অশ্লীল আচরণের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসছে। যদিও হয়রানির একটি নগণ্য অংশই পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পায়। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার পাশাপাশি নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসড়কে অনেক অর্থব্যয় করে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজগুলো নিদারুণ অবহেলার শিকার। ঝুঁকি নিয়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে পার হচ্ছেন অনেকে। মাঝে মধ্যে নগরীর ব্যস্ত সড়কে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ডিভাইডারের বেড়ার ফাঁকফোকর দিয়ে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে পার হতে। কেউ জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে চান না। আবার কেউ কেউ রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। একটি মোটরসাইকেলে সন্তানসহ পুরো পরিবার নিয়ে দূরপাল্লায় ভ্রমণ করছেন অনেকে। ট্রাফিক আইনের প্রতি এ ধরনের উদাসীনতা প্রকারান্তরে জীবনঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। তাই এসব বিষয়ে আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক সংগঠনগুলো জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রকৌশলগত ত্রুটি অপসারণের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এ তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ কাজ আরও জোরদার করা জরুরি। এ ছাড়া একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা নয়, সড়ক নিরাপদ করতে সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই সড়ক ব্যবহারকারী। তাই আসুন, নিজে সচেতন হই, অপরকে সচেতন করি এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলি; তবেই পূরণ হবে আমাদের নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা। নিশ্চিত হবে সড়ক নিরাপত্তা।

মো. আবু নাছের : উপসচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি