বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় রিমেলের রাতে অসহায় ব্যবসায়ীর দোকান লুট ও উচ্ছেদের অভিযোগ রাজশাহী নগরীতে ৬৬ হাজার ৫১৩ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে নগরীতে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত গ্রেপ্তার ময়নার শেষ কথা” চলচ্চিত্র নিয়ে আসছে ইরা শিকদার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষ্যে আ’লীগের নেতা কর্মিদের মত বিনিময় সভা সুবর্ণচরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্য মাহে আলমের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ রউফ সরকার শহীদ আহ্সান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন বাবুর শপথ – মোবারক হোসেন দেলোয়ার চৌদ্দগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে নিহত-৫, আহত-১৫

তপ্তদেহ শীতল করতো গাছের নিচে বসেই, গাছ না থাকায় এত গরম

সুমন মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় জামালপুর জেলাতেও তাপদাহ চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় জামালপুর জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচন্ড গরমে জেলার সর্বত্র জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বৃদ্ধ ও শিশুরা প্রচন্ড গরম সহ্য না করতে পেরে অসুস্থ হয়ে পরছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) জামালপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচন্ড গরমের কারণে মানুষের যাতায়াত কমে গেছে। ভ্যাপসা গরমে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে। পরিবারের কথা চিন্তা করে এই গরমের মধ্যেই কাজে যেতে বাসাবাড়ির বাইরে বের হতে হচ্ছে তাদেরকে। আবার যারা দিনমজুরের কাজ করেন তাদের কষ্টের সীমা নেই। রিকশা, অটোরিকশা চালকদের ঘর থেকে বের হয়ে শহরে জনশূন্য দেখে মাথায় হাত দিয়ে গাছের নিচে ছায়ায় বসে থাকতেও দেখা গেছে। প্রচন্ড গরমের মধ্যে অনেকেই রাস্তার ধারে ঠান্ডা শরবত ও আখের রস পান করতে দেখা গেছে। ডাবের দাম সাধ্যের মধ্যে না থাকলেও অনেকেই ডাবের পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।

সাধারণ পথচারীরা বলেন, শহরে কোন গাছ নাই। শুধু বিল্ডিং আর বিল্ডিং। আগে শহরে রাস্তার দুই পাশেই বিভিন্ন ফলজ গাছ ছিল প্রচন্ড গরমেও বসে আরাম করতে পারতাম, ফল পাইরাও খাইতাম।

সিংহজানী হাইস্কুল রোডের পারুল অফসেট প্রেসের কর্মচারী জুয়েল রানা বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। রাতে বাসায় ঠিকমত ঘুমানো যাচ্ছে না। প্রচন্ড গরমে কাজ করতে না পারায় পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অসুস্থবোধ করছি।

রিক্সাচালক আবুল হোসেন বলেন, সকালে রিক্সা নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু এখনও তেমন কামাই-রোজগার করতে পারিনি। গরমের কারণে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহরে গাছ নাই, পুকুর নাই যে বসে আরাম করবো। আগে শহরে প্রচুর গাছ, পুকুর ছিল। বসে আরাম করতে পারতাম।

জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, আগে শহরে প্রচুর গাছ ছিল, পুকুর ছিল। সাধারণ মানুষ গাছের ছায়ায় বসে তপ্তদেহ শীতল করতো। এখন গাছ না থাকার কারনেই এত গরম লাগে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও মানুষের সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু গাছ, নদী, পুকুর না থাকায় শহরে এত গরম বলে আমি মনে করি।

জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনজুরুল কাদির জানান, গত কয়েকদিন ধরেই দিনের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুর জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: