শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

করোনায় চরম মানবিক বিপর্যয়ে বেরোবি শিক্ষার্থীদের একাংশ

মাহফুজুর রহমান, বেরোবি প্রতিনিধি : অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের পরিক্রমায় এ অঞ্চলের মানুষের আশা, ভরসা ও স্বপ্নের প্রতীক হয়ে বটবৃক্ষের মত ছায়া দিচ্ছে এ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

আর স্বপ্নের এই অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অগণিত জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীরা।তবে দূর থেকে বেশ কিছু মেধাবী মুখ আসলেও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একাংশ কুড়িগ্রাম,লালমনিরহাট, পঞ্চগড়,গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী প্রভৃতি অঞ্চলের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা।

আর তাদের সেই লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একমাত্র অবলম্বন টিউশন কিংবা শহরের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো।কিন্তু করোনা ভাইরাসের দীর্ঘ প্রাদুর্ভাবের কারণে চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে এই সকল বেরোবিয়ানরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন মেসে থাকলে কষ্টে থাকলেও নিজেকে কিছুটা স্বান্তনা দিতে পারি,টিউশন চালিয়ে অভাবের সংসারে কিছুটা অবদান রাখতে পারি। কিন্তু দীর্ঘদিন বাড়িতে থেকে পরিবারের সবার চরম বিপর্যয় দেখে নিজেকে মেনে নিতে পারছি না!এত বড় হলাম,ভার্সিটিতে পড়ি তাও পরিবারের জন্য কিছু করতে পারিনা!আরেক শিক্ষার্থী বলেন এই রংপুর শহরে টিউশন করে ঠিকে থাকা ব্যাপক চ্যালেন্জিং, আপনি যদি সরেজমিনে অনুসন্ধান করেন তাহলে দেখতে পাবেন মাত্র ১০০০ টাকার একটা টিউশনির অফার পেলে প্রায় শতাধিক আগ্রহী পাবেন।

সদ্য অনার্স কমপ্লিট করা এক শিক্ষার্থী বলেন পড়াশোনা প্রায় শেষ হলেও টিউশন করে নিজের খরচ নিজে চালাতে হিমশিম খাই, দারিদ্রতার যাতাকলে পিষ্ট বাবা মাকে টাকার জন্য চাপও দিতে পারি না,আর এই করোনাকালে মারাত্নক বিপর্যয়ে আছি যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদ্য ভর্তি হওয়া ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন ভাবছিলাম ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে টিউশন কিংবা কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে নিজের ও আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের জন্য কিছু একটা করব, কিন্তু করোনাকালে পরিবারের সাথে খুব হতাশায় দিন পার হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন মেসে থাকা অবস্থায় দুঃখ কষ্টের মধ্যেও একটু স্বস্তি পেতাম,কিন্তু করোনাকালে বাড়িতে নিজের বাবা মায়ের বিবর্ণ চেহারা দেখতে আর ভাল লাগছে না,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমার মত অসহায়দের পাশে থাকত তাহলে খুব উপকৃত হতাম।সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বেরোবির মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হক বলেন করোনার এই দুঃসময়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মানবিক বিপর্যয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করা।এক্ষেত্রে তালিকা করে শিক্ষার্থীদেরকে এককালীন অনুদানও দেওয়া যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি