সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

কারা হবে ইউরোপ সেরা?

নিউজ ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছিল রাশিয়ায়, ভরা গ্যালারিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হতে যাচ্ছে পর্তুগালে, ফাঁকা গ্যালারিতে বায়ার্নের বিপক্ষে। আছে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা-না তোলার পার্থক্য, আছে করোনা-পূর্ববর্তী ও করোনা-যুগে খেলার নানান ফারাকও। তবে ফ্রান্সের ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজির হয়ে ইউরোপীয় মঞ্চের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি খেলতে নামার আগে এতটাই রোমাঞ্চ অনুভব করছেন যে, অনেক ফারাকের পরও তিনি বিশ্বকাপের আবহ খুঁজে পাচ্ছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে! কেবল এমবাপ্পে নন, রোমাঞ্চিত এখন পুরো প্যারিসই।

পঞ্চাশ বছরের ক্লাব ইতিহাসে এবারই যে প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলের ফাইনাল খেলতে নামছে পিএসজি। তবে আজ লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল পিএসজির মাইলফলকের চেয়েও বড় মাহাত্ম্যের।

ইউরোপের ইঞ্জিন : এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমির চার দল নিশ্চিত হতেই ইঙ্গিতপূর্ণ এক টুইট করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন; যেখানে লেখা ছিল ‘ব্রাসেলসে যেমন, মাঠেও তেমন।’ ইউরোপীয় দেশগুলোর সংস্থা ইইউতে বিভিন্ন ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকা দুটি দেশ হচ্ছে ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে ইইউ সদর দপ্তর ব্রাসেলসে যাদের চড়া কণ্ঠস্বর, তারাই কিনা মহাদেশীয় ফুটবলে কম উচ্চারিত হয়। আলোচনা, দাপট, গ্ল্যামারে ফ্রান্স ও জার্মানির ফুটবলের চেয়ে বেশি নামডাক ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির। কিন্তু এবারের আসরে ওই তিনটি দেশের কোনো ক্লাবই সেমিতে উঠতে পারেনি, যা ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম। ফাইনালে তাই জার্মানি ও ফ্রান্সের দুই ক্লাবের মুখোমুখি হওয়াকে রাজনীতির ‘ইউরোপের ইঞ্জিন’দের মাঠের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে চেয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

ট্রেবল জয়ের হাতছানি : পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ- দু’দলের সামনেই এখন ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনা। করোনা-বিঘ্নিত এবারের মৌসুমে বুন্দেসলিগার পাশাপাশি জার্মান কাপ জিতেছে বায়ার্ন। একইভাবে ফরাসি লিগ ওয়ানের সঙ্গে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ফ্রান্স কাপ জিতেছে পিএসজি। যে দলই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতুক, তাদেরই ২০১৯-২০ মৌসুমের ট্রেবল জেতা হবে। এর মধ্যে আগেও একবার ট্রেবল জিতেছে বায়ার্ন। তবে পিএসজির ক্ষেত্রে হবে প্রথম।

হৃদয়ভঙ্গের পর স্বপ্নপূরণের সুযোগ : ১১০ ম্যাচ- ইউরোপে পিএসজির মতো আর কোনো দলকে এতদিন ফাইনালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। পথচলার পাঁচ দশক পূর্ণ করা ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতেই খেলেছে একবার, ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে। তার পঁচিশ বছর পর এবার প্রথম ফাইনালে। ২০১১ সালে কাতারের নাসের আল খেলাইফির মালিকানায় যাওয়ার পর থেকেই ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের সমর্থকরা। কিন্তু হোঁচট খেতে হয়েছে বারবার। ২০১৩-১৬ টানা তিন বছরে বিদায় কোয়ার্টার ফাইনালে। তার পরের তিন মৌসুমে আরও খারাপ অবস্থা। গ্রুপ পর্বে দারুণ শুরু করেও বিদায় শেষ ষোলো থেকে। হৃদয়ভঙ্গের সম্ভাবনা জেগেছিল চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমেও। রাউন্ড অব সিক্সটিনের প্রথম লেগে হার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে। তবে দ্বিতীয় লেগ ঘুরে দাঁড়ানোর পর আর পেছনে ফিরতে হয়নি। সিঙ্গেল লেগের কোয়ার্টার, সেমি পেরিয়ে এখন ফাইনালের মঞ্চে স্বপ্নপূরণের পালা।

‘শাপমোচনে’র পালা বায়ার্নেরও : বায়ার্ন মিউনিখের হতাশাটা ঠিক পিএসজির মতো নয়। তবে নিজেদের মতো করে অতৃপ্তি আছে বাভারিয়ানদেরও। ২০১৩ সালে শিরোপা জেতার পর যেন অদৃশ্য এক ‘শাপ’ জড়িয়ে গেছে দলের সঙ্গে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা চার আসরের সেমিফাইনাল খেললেও ফাইনালে উঠতে পারেনি দলটি। শেষবার বিদায় নিতে হয়েছে পরে শিরোপা হাতে তোলা লিভারপুলের কাছে। সব মিলিয়ে ইউরোপের প্রধানতম শক্তিশালী দলগুলোর একটি হয়েও টানা সাত বছর ফাইনালের বাইরে ছিল বায়ার্ন মিউনিখ, যা এবার শিরোপাজয় দিয়ে পূরণের অপেক্ষায়।

রক্ষণ বনাম আক্রমণ : পুরো মৌসুমের দলগত পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনাল হতে যাচ্ছে জমাট রক্ষণ বনাম দাপুটে আক্রমণের। এবারের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করা দল বায়ার্ন মিউনিখ- মোট ৪২টি। আবার সবচেয়ে কম গোল হজম এবং বেশি ক্লিনশিটের দল পিএসজি। নেইমারদের দল গোল খেয়েছে মাত্র পাঁচটি, একটিও গোল খায়নি সাতটি ম্যাচে। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪.২টি গোল করা বায়ার্ন বার্সেলোনার একটি রেকর্ডের সামনে অবস্থান করছে। ১৯৯৯-০০ মৌসুমে ১৬ ম্যাচ খেলে ৪৫টি গোল করেছিল বার্সেলোনা, যা এক আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তাদের স্পর্শ করতে আর তিন গোল দরকার বাভারিয়ানদের।

লাতিনের প্রতিপক্ষ যখন ইউরোপ : প্রতিযোগিতা ইউরোপের, দুটি ক্লাবও একই মহাদেশের। তবে লড়াইয়ের ভেতরের লড়াইয়ে আছে ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকা।

পিএসজির জার্সিতে যারা গতিপথ বদলে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারেন, তাদের মধ্যে নেইমার, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, থিয়াগো সিলভা, মারকুইনহোসরা দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের ফুটবলার। আর বায়ার্নের হয়ে যারা প্রধান ভূমিকা রাখতে পারেন, তাদের সবাই ইউরোপিয়ান- রবার্ট লেভানডস্কি (পোল্যান্ড), সার্গে জিনাব্রি, ম্যানুয়েল ন্যুয়ার (জার্মানি), ইভান পেরিসিচ (ক্রোয়েশিয়া)।

দুই দলের প্রধান নায়ক

লেভানডস্কি : সেমি পর্যন্ত করেছেন ১৫ গোল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক আসরে পনেরো গোল করা প্রথম ব্যক্তি। আর দুটি গোল করলে রোনালদোর সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন, হ্যাটট্রিক করতে পারলে উঠে যাবেন শীর্ষে। এটি তার প্রথম ফাইনাল।

নেইমার : যতটা না গোলস্কোরার, তার চেয়ে বেশি প্লে-মেকার হয়ে উঠেছেন এবার। চলতি আসরে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটি, সব মিলিয়ে ২৪; ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অভিষেকের পর আর কারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এত অ্যাসিস্ট নেই। বার্সেলোনার সঙ্গে ২০১৫ মৌসুমের শিরোপা জেতার পর এটি তার দ্বিতীয় ফাইনাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি