সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন
নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ডোমারে অবস্থিত চিলাহাটিতে আধুনিক ও নান্দনিক রেলস্টেশন ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) লিয়াকত শরীফ খান ফিতা কেটে নতুন ভবনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিভিশনাল ট্রান্সপোর্ট অফিসার হাসিনা খাতুন, ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার গৌতম কুমার কুন্ডু, ট্রাফিক ইনস্পেক্টর হাবিবুর রহমান এবং রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের ডিএমটু ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম জানান, দুই ধাপে রেললাইন ও লুপলাইন স্থাপনসহ পুরো স্টেশন এলাকা গড়ে তুলতে ব্যয় হয়েছে ২২০ কোটি টাকা। আধুনিক স্টেশন ভবনে রয়েছে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ, ডিজিটাল টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের জন্য প্রশস্ত বসার জায়গা, পরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে বসানো হয়েছে ১৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা (১৪টি কাস্টমসের আওতায়, ৩টি রেলের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়)। ভবিষ্যতে যুক্ত হবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, মানি এক্সচেঞ্জ অফিস, ফাস্টফুড দোকান ও তিনতলা বিশিষ্ট হোটেল।
জানা যায়, চিলাহাটি রেলস্টেশনের রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ আমলে কলকাতা-হলদিবাড়ি-দার্জিলিং রুটের অংশ হিসেবে এটি স্থাপিত হয়। দেশভাগের পরও ট্রেন চলত এই পথে, কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায় এই রেলপথ। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর পুনরায় চালু হয় মালবাহী ট্রেন চলাচল এবং ২০২১ সালের ২৭ মার্চ উদ্বোধন হয় যাত্রীবাহী মিতালি এক্সপ্রেসের। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ ছিল, যা পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১ জুন পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে ট্রেনটির চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে, তবে চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
চিলাহাটি রেলস্টেশন ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—পুনরায় মিতালি এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন ও ব্যবসায়িক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন অফিস চালু হলে যাত্রীদের আর ঢাকায় যেতে হবে না।
চিলাহাটি থেকে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ, চীন সরকারের আগ্রহ, ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্তি এবং ভুটানের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন—সব মিলিয়ে এই স্টেশনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা।
নতুন স্টেশন ভবনের সৌন্দর্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুযোগ-সুবিধা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য। স্থানীয়রা মনে করেন, এটি শুধু একটি স্টেশন নয়—একটি সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু, যা জাতীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।