শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কুলাউড়ার দু:খ রেলওয়ের পরিত্যক্ত ভবন গুলো, শত ভবন আর হাজার একর ভুমি অবৈধ দখলে চৌদ্দগ্রামে বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ ও ফ্যাক্টরী ভাংচুর লোহাগড়ায় মতবিনিময় সভা ও পৌর শাখা কমিটি গঠন দেশসেরা স্প্রিন্টার জাকির হোসেনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা শ্রাবণে উপবাস ভাঙুন পুষ্টিকর শুকনো ফলের লাড্ডুতে, রইল সহজ রেসিপি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলো বাংলাদেশ প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতে রাজধানী পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ইউরেনাসের চাঁদ এরিয়েলে ছিল ১৬০ কিলোমিটার গভীর মহাসাগর: গবেষণা সাতক্ষীরায় মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

চৌদ্দগ্রামে বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ ও ফ্যাক্টরী ভাংচুর

আবদুল মান্নান চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনধি: টানা কয়েক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ শেষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টার পর ইউএনওর আশ্বাসে প্রথমে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নিয়ে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সামনে আন্দোলন করতে থাকে। চার দিন লাগাতার বিক্ষোভ, কর্মবিরতি, কয়েক দফা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ও ব্যাপক হামলা-ভাংচুর শেষে কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেয়ার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের আন্দোলন। গত সোমবার থেকে শুরু হয়ে চতুর্থ দিন ধরে চলা শ্রমিকদের এ বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে অনেকটা সহিংসতায়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার ফ্যাক্টরির মূল ফটক ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে শ্রমিকরা। এ সময় ইট মেরে ফ্যাক্টরির গøাসও ভাঙ্গা হয়। তবে পুলিশের অবস্থানের কারণে গেট কিছুটা ভাঙলেও বিকেল ৪টা পর্যন্ত শ্রমিকরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। টানা কয়েক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ শেষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টার পর ইউএনওর আশ্বাসে প্রথমে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নিয়ে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সামনে আন্দোলন করতে থাকে। এসময় পর্যন্ত দাবি না মেনে নেয়ায় শ্রমিকরা ফ্যাক্টরিতে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এক পর্যায়ে কোম্পানির পরিচালক গোলাম মোস্তফা দাবিগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালে শ্রমিকদের আন্দোলন শেষে দাবি মানার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দেয়। কিন্তু সেই দাবিগুলোর অধিকাংশই মানা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই কাজ বন্ধ করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করাসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, শ্রমিকদের দাবি মানাসহ ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে কাজে অংশগ্রহণ করা শ্রমিকদের একাংশকে ফ্যাক্টরি থেকে বের করে দিতে হবে। না হয় তারা মহাসড়ক অবরোধ ছাড়বে না।

ফ্যাক্টরির মালিক গোলাম মোস্তফার ভাষ্য, শ্রমিকদের চলমান দাবিগুলোর মধ্যে অধিকাংশই সর্বশেষ ২০২৪ সালের আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে মানা হয়েছে। গত সোমবার থেকে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে। শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিএনপি জামায়াতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে দাবি মানার আশ্বাসে শ্রমিক প্রতিনিধিরা মিটিং ত্যাগ করে এবং কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শ্রমিকদের একটি অংশ আবারো বিশৃঙ্খলা শুরু করে।

তিনি আরো জানান, বর্তমান বেতন বাড়ানোর দাবি মানা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রয়োজনে তিনি ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেয়ারও হুঁশিয়ারী দেন। তবে বিকেলে শ্রমিকদের ব্যাপক সহিংসতা ও আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো মেনে নেয়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শ্রমিকরা সাময়িক সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধ করে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আশ্বস্ত করলে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয়। বিকেলে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেও পরক্ষণে মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আাসে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: