রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
নেপালকে হারিয়ে ভারতে চোখ বাংলাদেশের হাল ফ্যাশন শারদীয় ভোজ: নারকেলের চাটনি ‘সোনার হরিণ’ খ্যাত গ্রিন কার্ড হাতে পেলেন মৌসুমী মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও ৭ জন, পরবর্তী শুনানি ২৮ অক্টোবর সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পিছু হটল বিএসএফ একসময়ের শান্তিময় শহর কুমিল্লায় এখন যানজট–জলজট ও জনজট একাদশ শ্রেণির ভর্তি: তৃতীয় ধাপে আবেদন করার সূচি প্রকাশ ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াত আমিরের কাছে জানতে চাইলেন বিএনপি মহাসচিব ভারতে বিক্ষোভে ‘গোদি মিডিয়ার’ সাংবাদিকেরা কেন তোপের মুখে

কুলাউড়ায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত ভবন ও হাজার একর জমি অবৈধ দখলে

উপজেলা প্রতিনিধি, কুলাউড়া : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের পরিত্যক্ত ভবন ও বিপুল পরিমাণ রেলওয়ের জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক শতাধিক পরিত্যক্ত ভবন এবং হাজার একরের বেশি রেলওয়ের জমি প্রভাবশালী দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে যেমন সরকারি সম্পদ বেহাত হচ্ছে, তেমনি কিছু পরিত্যক্ত ভবনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮২ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৮৯২ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৯৬ সালে আখাউড়া-করিমগঞ্জ রেলপথ চালু হয়। পরে ১৮৯৯ সালে ট্রেন চলাচল শুরু এবং ১৯০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথটির উদ্বোধন করেন। ১৯১৫ সালে কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন চালু হওয়ার পর কুলাউড়া গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনে পরিণত হয়।

জানা যায়, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ থেকে উত্তর দিকের আউটার সিগনাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কয়েক শতাধিক আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ২০০০ সালের দিকে লাতু রেললাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জংশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। এতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যত্র বদলি হলে বিপুল সংখ্যক সরকারি বাসভবন পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকেই অসাধু চক্র ও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ভবন ও জমি দখল এবং বিক্রির ঘটনা শুরু হয়। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দখল হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে। অনেক স্থানে পুরোনো ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের জমিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান, গুদাম ও বাণিজ্যিক স্থাপনা, যেগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবন, জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া চুরি হওয়া গবাদিপশু এসব ভবনে এনে জবাই করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল রেলওয়ের মূল নকশা ও রেকর্ড অনুযায়ী অবৈধ দখলে থাকা জমি ও ভবন দ্রুত উদ্ধার করে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অবৈধ দখলদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: