শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
১৮৮২ সালে আসাম বেংগল রেল লাইন স্থাপনের সীদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৮৯২ সালে কাজ শুরু হয়, ১৮৯৬ সালে আখাউড়া-করিমগঞ্জ রেললাইন স্থাপিত হয়। ১৮৯৯ সালে রেল চলাচল শুরু হয়। ১৯০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী লর্ড কার্জন আনুষ্ঠানিকভাবে ১২০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনের উদ্বোধন করেন। ১৯১৫ সালে কুলাউড়া সিলেট রেল লাইন চালু হবার মধ্যদিয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়। কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুর্ব পাশ থেকে শুরু করে উত্তর দিকে আউটার সিগনাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েক শত বাসভবন নির্মাণ করে শত বছরের অধিক কাল কার্যক্রম চলে। কিন্তু ২০০০ সালের দিকে লাতুর লাইন বন্ধ হবার পর জংশন এর অনেক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন অফিসার ও কর্মচারীদের অন্যত্র বদলী করা হলে অনেক বাস ভবন খালি হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, আসাম বেংগল রেলওয়ের ড্রাইভার এবং নিম্ন পদের অধিকাংশ কর্মচারী ছিলো ভারতের বদরপুর এলাকার লোক। ভারত পাকিস্তান আলাদা হবার পর তাদের অধিকাংশরা কুলাউড়ায় বসতি গড়ে। এদের অনেকে অবসর গ্রহণের পর রেলওয়ের ভুমি দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বংশ পরম্পরায় আজও বসবাস করছে। এই ভুমিগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের।
২০০০ সালের পুর্ব থেকে একে একে রেলওয়ের বাস ভবন গুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে দখল ও বাণিজ্যের এক মহা উৎসব শুরু হয়। কিছু সংখ্যক অসাদু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দখল বিক্রি চলতে থাকে। অনেকে পুরাতন ঘর ভেংগে বহুতল দালান করে ফেলেছে। কেহ মাসিক ভাড়া দিয়ে মাসোহারা তুলছে। রেলওয়ের দখল করা ভুমির অলি গলির রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে শত শত দোকান আর গোদাম ঘর। হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মাসিক ভাড়া। দেখলে মনে হবে না এগুলো রেলওয়ের ভুমি, মনে হবে দখলদারদের চৌদ্দ পুরুষের মৌরসী সম্পদ।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে অনেক পরিত্যক্ত ভবনে দখলদাররা অথবা তাদের ভাড়াটিয়ারা গড়ে তুলেছে অপরাধের স্বর্গ রাজ্য। মদ, গাঞ্জা, ইয়াবাসহ অনেক অসামাজিক কর্মকান্ড এখানে ঘটছে প্রতিনিয়ত। কিছুদিন আগে শুনাগেছে এলাকার চুরি করা গরু এসব পরিত্যক্ত ভবনে লুকিয়ে রেখে জবাই করে তা বিক্রি করা হয়েছে। তাছাড়া হাসিনার আমলের অনেক পলাতক আসামী এসব ভবনে দীর্ঘদিন অবস্থান করার কথাও লোকমুখে প্রচলিত আছে। বিধায় রেলওয়ের ম্যাপ দেখে সকল বেহাত হওয়া ভুমি ও ভবন দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে তা কাজে লাগিয়ে সরকারি আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ রইলো। আর আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা সকল অবৈধ দখলদার ও অসামাজিক কর্মকান্ডকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় এনে কুলাউড়াবাসীকে আশংকামুক্ত করার জোর দাবী জানানো হচ্ছে।