শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ধামসর গ্রামে এক খ্রিস্টান তরুণীর রহস্যজনক আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ০৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় উজিরপুরের ধামসর গ্রামে মামা মাইকেল পান্ডের বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। সে আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃত মিন্টু মন্ডল ও অঞ্জুনা মন্ডল এর কন্যা ন্যান্সি মন্ডল (২০)। দীর্ঘদিন যাবৎ ধামসর গ্রামে মামা মাইকেল পান্ডে ও সুমন পান্ডের বাড়িতে বসবাস করে। তার ২ ভাই ঢাকায় বসবাস করে।
৩ বছর পূর্বে ধামসর গ্রামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের লালসার স্বীকার হয়ে পুত্র সন্তানের মা হন ন্যান্সি মন্ডল।এ নিয়ে মামলা চলমান। তবে তার সন্তান বিক্রির অভিযোগ রয়েছে মামাদের বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম প্রতিদিনের ন্যায় তার মামা মাইকেল পান্ডে ও মামানীর সাথে রাতের খাবার খেয়ে মাঝখানের রুমে ঘুমাতে যায়। তার মামা ও মামী বাসার পিছনের বারান্দা রুমে ঘুমানো ছিল। সকাল অনুমান ৭ টায় ভিকটিমের মামা মাইকেল পান্ডে ভিকটিমকে ডাকতে গিয়ে দেখেন ভিকটিম এর লাশ তার শয়ন কক্ষের ভিতরে ঘরের কাঠের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। শয়ন কক্ষের দরজা খোলা অবস্থায় ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মামা ডাক চিৎকারে ভিকটিমের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন এবং পুলিশের খবর দেন। মামা মাইকেল পান্ডে আরো জানান আমার ভাগ্নি ন্যান্সি মন্ডল ফেসবুকে ফরিদপুর জেলার টুম্পা নামের একজন মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাধে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে মর্মে জানা যায়।
বন্ধুত্বের সম্পর্কের জেরে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ২৪ আগস্ট উক্ত প্রেমের সম্পর্কে তারা দুজন দুজনের বাসা হতে পালিয়ে গিয়ে মাদারীপুর জেলা আত্মগোপনে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় তাদের খুঁজে বের করে মামা সুমন পান্ডে ও মাইকেল পান্ডে নিজের বাসায় নিয়ে আসে। উক্ত প্রেমের সম্পর্ক ভাঙ্গনের কারণে এবং ভিকটিমের মামাদের মান সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ায় ভিকটিম মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিকভাবে জানায়।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর সালাম জানান, লাশের ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।