শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
নকশা ও নিয়ম বহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধে, যখন কঠোর অবস্থায় সরকার। তখন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয় তলা অনুমোদিত ভবনে ৪র্থ তলা নির্মাণ করার। নকশা বহির্ভূত কাজ করায় প্রাণনাশ ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন, কর্মচারি ও ভবনে থাকা ব্যবসায়ীরা।
তবে, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, নকশা কিংবা নিয়ম বহির্ভূত কাজ হচ্ছে না। ৩য় তলার অনুমোদন নেওয়া বিল্ডিংয়ে ৪র্থ তলা নির্মাণ করা যায়। এছাড়া যে স্থাপনাটি হচ্ছে, তাতে রড দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়নি। ইটের গাঁথুনি দিয়ে পিলার হচ্ছে। ৪র্থ তলার নির্মাণ কাজের ফলে, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হবে না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী বলছেন, পৌরসভার পুরাতন এই ভবনটির সামনের অংশে। ৬ তলা পৌর আধুনিক বিপনি বিতান নির্মাণের সময়, ভবনটির মেঝে ও দেওয়ালের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ওইসময় সংস্কার করায়, ঝুঁকিমুক্ত হয় ভবনটি। সম্প্রতি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ৪র্থ তলার নির্মাণ কাজ করছেন। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছেন। কারন, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। গত কয়েক দিন আগের ভূমিকম্পে দেশের একাধিক জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
পৌরসভার কর্মচারি মো. শহিদ (ছদ্মনাম) বলেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পুরাতন ভবনটি ৩ তলা অনুমোদিত। পুরাতন ভবনের সামনের পৌর আধুনিক বিপনি বিতান ৬ষ্ঠ তলার অনুমোদনকৃত। ভবন দুইটির বেশিরভাগ কক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। পার্কিংয়ের জায়গাটিও ভাড়া দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনায় ও সেবাপ্রার্থীদের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে ৪র্থ তলায় একটি কক্ষ বৃদ্ধি করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটি না করে, ভাড়ায় থাকা কয়েকটি দোকান ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতো।
এতে নিয়ম বহির্ভূত কাজ করার প্রয়োজন হতো না।
নাগরিক আন্দোলন লক্ষ্মীপুরের সভাপতি একিউএম সাহাব উদ্দিন বলেন, বিল্ডিং নির্মাণে পৌর বাসিন্দারা অনিয়ম করলে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শাস্তি দিবে। নিয়ম ও নকশা বহির্ভূত কাজ হলে, সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু নিজেরা (পৌরসভা) নকশা ও নিয়ম বহির্ভূত কাজ করছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ৩ তলা অনুমোদিত ভবনে, ৪র্থ তলা নির্মাণ করা ঠিক হয়নি। আমরা প্রত্যাশা করছি, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ৪র্থ তলা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।
এবিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ ফারাভী বলেন, নিয়ম বহির্ভূত কোন কাজ হয়নি। অফিস কক্ষ সংকট থাকায়, ৩য় তলার ছাদে একটি কক্ষ করা হয়েছে। কক্ষটি ভাড়া নয়, পৌরসভা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে।