শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জেলার তিনটি আসনে এবার সর্বমোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভিড়ে এবার গোপালগঞ্জের নির্বাচনী ময়দান বেশ সরগরম। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-২ ও ৩ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা গত কয়েক নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা পড়া আসনভিত্তিক প্রার্থীদের পরিসংখ্যান:
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী আংশিক):
এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন— এ্যাড. মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মোঃ জাকির হোসেন (জনতার দল), সেলিমুজ্জামান (বিএনপি), আশরাফুল আলম শিমুল (স্বতন্ত্র), আব্দুল হামিদ (জামায়াতে ইসলামী), এম আনিসুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) এবং মোঃ কাবির মিয়া (গণ অধিকার পরিষদ)।
গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর-কাশিয়ানী আংশিক):
সবচেয়ে বেশি ১৩ জন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— মাহামুদ হাসান (জাকের পার্টি), শুয়াইব ইব্রাহিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), কে এম বাবর (বিএনপি), এম এইচ খান মঞ্জু (স্বতন্ত্র), সিরাজুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), উৎপল বিশ্বাস (স্বতন্ত্র), কামরুজ্জামান ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), শিপন ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), শাহ মফিজ (গণফোরাম), তসলিম হোসাইন শিকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রিয়াজ সারোয়ার (জাতীয় পার্টি), দ্বীন মোহাম্মদ (গণ অধিকার পরিষদ) এবং এ্যাডভোকেট মশিউর রহমান (স্বতন্ত্র)।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া):
ভিআইপি এই আসনে লড়াইয়ে আছেন ১২ জন প্রার্থী। তারা হলেন— আবুল বশার দাঁড়িয়া (গণ অধিকার পরিষদ), মারুফ শেখ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এ্যাড. হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), মোঃ আরিফুল দাঁড়িয়া (এনসিপি), এস এম জিলানী (বিএনপি), গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক (হিন্দু ঐক্য জোট), শেখ সালাউদ্দিন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), আঃ আজিজ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), রওশন আরা (মহিলা দল), দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস (গণফোরাম), আলি আহম্মেদ (খেলাফত মজলিস) এবং রেজাউল করিম (জামায়াতে ইসলামী)।
উৎসবমুখর পরিবেশ ও কড়া নিরাপত্তা সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সমর্থকদের নিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
যাচাই-বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। তবে মনোনয়নপত্র জমার দিন থেকেই গোপালগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ভোটারদের মধ্যেও কাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।