শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে জামাল খাসেগির বাগদত্তার মামলা

নিউজ ডেস্ক :: সৌদি রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক ও সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায় তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলা করেছেন। বিন সালমানের বিরুদ্ধে খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, খাসোগি এবং হাতিস চেঙ্গিসের প্রতিষ্ঠা করা মানবাধিকার সংস্থার ক্ষয়ক্ষতি করেছেন বিন সালমান। খবর বিবিসির

খাশোগি ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। পরে তিনি নিখোঁজ হন।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়ের করা নাগরিক মামলায় তুরস্কের নাগরিক হাতিস চেঙ্গিস ব্যক্তিগত আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং খাসোগির মৃত্যুতে হওয়া আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

খাসোগির মানবাধিকার সংস্থা ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাও (ডন) তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জামাল খাসোগিকে ‘মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় তার অনুসারীরা’ হত্যা করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক ভিডিও কনফারেন্সে হাতিস চেঙ্গিস ও ডন জানায়, খাসোগি হত্যায় দায়ী যুবরাজ মোহাম্মদকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালতে বিচারের আওতায় আনা হয়, সেই লক্ষ্যেই মামলাটি করেছেন তারা।

এক বিবৃতিতে চেঙ্গিস বলেন, ‘জামাল বিশ্বাস করতো আমেরিকায় যে কোনো কিছু সম্ভব। তাই বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য আমিও আমেরিকার নাগরিক আইনের ওপর আস্থা রাখছি।’

জামাল খাশোগি এক সময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। তবে এক পর্যায়ে অবস্থান পাল্টে তিনি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে তিনি সৌদি রাজপরিবারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কলাম লিখতেন।

ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার পর তুর্কি দাবি করেছিল, খাশোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।

তবে খাশোগি নিখোঁজের পর সৌদি কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিল, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে গেছেন। পরে তারা দাবি করে, এজেন্টদের সঙ্গে ‘হাতাহাতিতে’ খাশোগির মৃত্যু হয়েছে।

সৌদি রাজপরিবারের, বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রত্যক্ষ মদদে খাশোগিকে ইস্তাম্বুলে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। সৌদি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদির এ দাবিতে সন্তুষ্ট ছিল না।

পরে সৌদি আরব জানায়, সরকারি একটি বাহিনীকে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়েছিল খাশোগিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেই ‘অভিযানটি বিশৃঙ্খল’ হয়ে পড়ায় খাশোগি খুন হয়ে যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি