বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

নেত্রকোনায় প্রধান শিক্ষকের ভাই সভাপতি, তাই স্কুলে নানা অনিয়ম

নেত্রকোনার মদনে সাপ্তাহিক হাটের দিন থাকার অজুহাতে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন স্কুল শিক্ষক।

মঙ্গলবার উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের কাতলা হাজী চমক আলী ভূঁইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের ভাই হওয়ায় কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। তাই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দিলেও কারও বলার থাকে না।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বিদ্যালয়ে সরেজমিন গেলে শিক্ষক -শিক্ষার্থীসহ কাউকে পাওয়া যায়নি। এ সময় বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সহকারী শিক্ষক কামাল গণি পাশের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষক কামাল গণি জানান, এলাকায় মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুটি দেয়া হয়। বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক ও ১৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

আজ ৫০ জন শিক্ষার্থীসহ আমি উপস্থিত ছিলাম। সহকারী শিক্ষক লাভলি রানী অসুস্থতায় ছুটিতে আছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামের উপস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সবুজের বড় ভাই সভাপতি আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া হওয়ায় তিনি নিয়মিত স্কুলে আসেন না। বাড়ির পাশে বিদ্যালয়টি থাকলেও তিনি উপজেলা সদরে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছেন।

সকাল ৯টা ১৫ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করার নিয়ম থাকলেও এ বিদ্যালয়ে তা মানা হয় না। শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যালয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির খোকা মিয়া ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্না আক্তার জানায়, তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি দেয়ায় আমরা খেলতে পারি। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় এখনও অনেক বইয়ের ক্লাস হয় না।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া জানান, আমি উপজেলা সদরে থাকি। মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে যাই। আজ শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার জানা নেই।

তবে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে একাধিকবার জানালেও কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না। বেতন বিলে আমি স্বাক্ষর না করলেও তারা বেতন তুলে নিয়ে যান। তবে প্রধান শিক্ষক আপন ভাই কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুজাহিদুল ইসলাম জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক উপজেলা সদরে ছিল। দুপুরে কেন ছুটি দিল বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সবুজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি