রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মুক্তারপুরে ইটবোঝাই ট্রলার ডুবি, ১১ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার গোপালগঞ্জ-২ সদর আসনের সাংসদকে উপজেলা পরিষদ ও ২১ ইউপি চেয়ারম্যানের সংবর্ধনা অনুমতি ছাড়াই ফুলবাড়ীতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ নড়াইলের লোহাগড়া লিটল চিলড্রেন ইংলিশ স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মার্কিন ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবি, সংসদে আলোচনার আহ্বান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের CASA আমানতে ২,১০০ কোটি টাকার প্রবৃদ্ধি বিদেশি ঋণ আর সহায়তা জাতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেবে না ফের পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার লড়াই কঠিন করে তুলল রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ নিভে যাচ্ছে: ঘোনাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শের আলী আজ মৃত্যু পথযাত্রী

শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ :
একটি ঘাতক বাস কেড়ে নিতে বসেছে একটি পরিবারের সবটুকু স্বপ্ন। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় ঘাতক বাসের চাপায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে চলেছেন দিনমজুর শের আলী শেখ (৪৫)। বর্তমানে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। শের আলী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত মোজাম শেখের ছেলে।

ঘটনার দিন শের আলী ভ্যানযোগে ভাটিয়াপাড়া থেকে ফিরছিলেন। ঘোনাপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাদের ভ্যানটিকে পিষে দেয়। বাসের ধাক্কায় ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং শের আলী মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে খুলনায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

একদিকে প্রাণের আকুতি, অন্যদিকে রিক্ত পকেট শের আলীর পরিবার জানায়, তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র চাকা। দিনমজুরের কাজ করে যা পেতেন, তা দিয়েই চলত স্ত্রী ও সন্তানদের জীবন। আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
বর্তমানে প্রতিদিনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এই অসহায় পরিবারটির। অর্থাভাবে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে তার চিকিৎসা।

“আমাদের ঘরে কাল কী রান্না হবে তার ঠিক নেই, তার ওপর প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ওষুধ কোথা থেকে আসবে? আপনারা দয়া করে আমার স্বামীকে বাঁচান।” — কান্নায় ভেঙে পড়ে এই আকুতি জানান শের আলীর স্ত্রী।

একদিকে চিকিৎসার পাহাড়সম খরচ, অন্যদিকে অনাহারে থাকা পরিবার—সব মিলিয়ে শের আলীর স্বজনরা এখন দিশেহারা। তারা সরকারের কাছে ও স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সামর্থ্যবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য বিনীত আবেদন জানিয়েছেন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতায় হয়তো ফিরে পেতে পারে একটি পরিবার তাদের একমাত্র অভিভাবককে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: