বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ :
একটি ঘাতক বাস কেড়ে নিতে বসেছে একটি পরিবারের সবটুকু স্বপ্ন। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় ঘাতক বাসের চাপায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে চলেছেন দিনমজুর শের আলী শেখ (৪৫)। বর্তমানে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। শের আলী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত মোজাম শেখের ছেলে।
ঘটনার দিন শের আলী ভ্যানযোগে ভাটিয়াপাড়া থেকে ফিরছিলেন। ঘোনাপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাদের ভ্যানটিকে পিষে দেয়। বাসের ধাক্কায় ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং শের আলী মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে খুলনায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
একদিকে প্রাণের আকুতি, অন্যদিকে রিক্ত পকেট শের আলীর পরিবার জানায়, তিনি ছিলেন সংসারের একমাত্র চাকা। দিনমজুরের কাজ করে যা পেতেন, তা দিয়েই চলত স্ত্রী ও সন্তানদের জীবন। আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের বিছানায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে সুস্থ করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
বর্তমানে প্রতিদিনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এই অসহায় পরিবারটির। অর্থাভাবে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে তার চিকিৎসা।
“আমাদের ঘরে কাল কী রান্না হবে তার ঠিক নেই, তার ওপর প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ওষুধ কোথা থেকে আসবে? আপনারা দয়া করে আমার স্বামীকে বাঁচান।” — কান্নায় ভেঙে পড়ে এই আকুতি জানান শের আলীর স্ত্রী।
একদিকে চিকিৎসার পাহাড়সম খরচ, অন্যদিকে অনাহারে থাকা পরিবার—সব মিলিয়ে শের আলীর স্বজনরা এখন দিশেহারা। তারা সরকারের কাছে ও স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সামর্থ্যবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য বিনীত আবেদন জানিয়েছেন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতায় হয়তো ফিরে পেতে পারে একটি পরিবার তাদের একমাত্র অভিভাবককে।