বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
আব্দুল মান্নান চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বৈদ্যরখীল, সেনেরখীল, জৈয়ন্তী নগর, রামরায় গ্রামসহ পাশের গ্রামগুলোতে হাত বাড়ালে মাদক পাওয়া যায়। মাদক ব্যবসায়ীদের আন্তঃ কোন্দলে শিকার আহত এক নির্মাণ শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে সোমবার রাতে মারা গেছে। মাদকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে আহত হওয়া যুবক বশির উদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় এলাকার বিক্ষুদ্ধ জনতা মাদক সম্রাট আবু রশিদ এর দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতার রোষানলে পড়ে। জনতার ইট পাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছে। তথ্যটি মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছে,চৌদ্দগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। নিহত বশির (৪৫)চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বৈদ্দেরখিল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন এর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার সীমান্তবর্তী বৈদ্দেরখীল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে মাদক সম্রাট আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে মাদক সরবরাহকারী নাদিরের সাথে রাস্তায় খোলামেলা অবস্হায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় নাদিরের পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
খবর পেয়ে আবু রশিদের দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে নাদিরের পক্ষের লোকজনের উপর পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় নির্মাণ শ্রমিক বশির গুরুতর আহত হয়। হামলকারীরা বশিরের মাথায় ইটদিয়ে থেতলে দেয় এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। স্হানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বশির ও আবু রশিদকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থার দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টায় নির্মাণ শ্রমিক বশির ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। রাতে বশিরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত আনুমানিক ২টায় বৈদ্যরখীল, সেনেরখীল, জৈয়ন্তী নগর,রামরায় গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক বিক্ষুব্ধরা লোকজন মাদক ব্যবসায়ী আবু রশিদ, তার মেঝো ভাই আবু তাহের ও ছোট ভাই সোহেলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।অগ্নিকান্ডে দুইটি বসতঘর পুড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এর দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, গত ২১ শে এপ্রিল রাতে বৈদ্দেরখীল গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বশির উদ্দিন ও আবু রশিদ আহত হওয়ার ঘটনায় উভয় পরিবার থানায় দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বশির এর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একাধিক টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে যায়। এই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদ ও সোহেলের বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদেরকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।নিহত বশির এর চাচাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিন সন্তানের জনক বশির পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। ২১ শে এপ্রিল সংঘর্ষের সংবাদ শুনে তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আবু রশিদের দুই ছেলে তাকে একা দাড়িয়ে থাকতে দেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে থেতলে দেয়ার কারণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে বশিরের মাথায় জটিল অপারেশন করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বশির সেখানে মৃত্যুবরণ করে।
৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, মাদকের ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২১ এপ্রিল রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭নং ওয়ার্ডটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট এই এলাকাটি ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা সহ সরবরাহ করে আসছে। নাদির ও আবু রশিদের পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। নির্মাণ শ্রমিক বশিরকে মাদক ব্যবসায়ীদের বলি হতে হয়েছে।চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ২১ এপ্রিল বৈদ্দেরখীল এলাকায় দু পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পরিবার থানায় পৃথক ২টি মামলা করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি ওই ঘটনায় আহত হওয়ায় বশির নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।