মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
মাঠে খেলা পরিচালনার দায়িত্ব যাদের, সেই ফুটবল রেফারিরাই প্রাপ্য সম্মানির অপেক্ষায়। বিভিন্ন লিগ ও টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালনের বিপরীতে তাদের প্রায় দুই কোটি টাকার সম্মানি বকেয়া রয়েছে। সামনে ঈদ। সেই অর্থ পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরফলে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারি ও সহকারী রেফারিদের সম্মানির বড় একটি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই খাতে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে, যা মোট বকেয়ার তুলনায় সামান্য। ফলে অধিকাংশ রেফারিই তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন।
বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টি ঘিরে বাফুফের ভেতরেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, পাওনা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে বাফুফের কো-চেয়ারম্যান সুজিত ব্যানার্জি ও ফেডারেশনের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মোস্তফার মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় বাফুফে। ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন শাহিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রেফারিদের অভিযোগ, মাঠে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ম্যাচের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করাসহ সব দায়িত্ব তাদের। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করেও বছরের পর বছর সম্মানির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের আগে পাওনা অর্থ না পাওয়ায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। একজন জ্যেষ্ঠ রেফারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা মাঠে শত চাপের মধ্যে ম্যাচ পরিচালনা করি। খেলোয়াড়, কোচ, দর্শক-সব চাপ সামলে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু নিজের প্রাপ্য সম্মানি পেতে এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।’
বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামোতে রেফারিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু তাদের প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকায় পেশাগত মর্যাদা ও অনুপ্রেরণা, দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বাফুফের ভেতরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির তদন্ত শেষে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে দেশের ফুটবল অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা একসময় মাঠের খেলাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।