রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
মানিকগঞ্জ থেকে আকাশ চৌধুরী :
মানিকগঞ্জের দিঘুলিয়া চকে পাঁচ দিন পর একটি বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) মস্তক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই’র মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী। তবে এটি অটোরিকশা চালক রফিক মিয়ার কিনা—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার পরই মস্তকের পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন নবগ্রাম ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পশ্চিম পাড়ে সোনামিয়া প্রামাণিকের ভুট্টা ক্ষেতে ঘাসের মধ্যে মস্তকটি পড়ে ছিল।
দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রিহাদ হোসেন ভুট্টা ক্ষেতে ভুট্টা ভাঙতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি একটি কাটা মাথা দেখতে পান। সকাল ৯টার দিকে তিনি বিষয়টি নবগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানান। পরে তিনি থানা পুলিশ ও পিবিআইকে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য যে,মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় অটোরিকশার লোভে বন্ধুকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় চালক রফিক মিয়াকে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পিবিআই। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের বিচ্ছিন্ন মস্তকটি নিখোঁজ ছিল।
শনিবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মানিকগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, নিহত রফিক মিয়ার বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারে অভিযান চালানো হলেও তখন পর্যন্ত তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের অটোরিকশা চালক রফিক মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। গত ২৪ মার্চ রাতে গাঁজা সেবনের কথা বলে তাকে আরেকটি অটোরিকশায় করে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকার কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায় তার বন্ধু নির্মাণ শ্রমিক রিপন, সজিব ও আরমান।
সেখানে নেওয়ার পর আরমান প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে রফিক মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় অন্যরা তাকে ধরে রাখে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
ঘটনার পর তারা মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। তবে দেহ ভেসে উঠলে সেটি নদীর তীরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে রফিকের অটোরিকশা নিয়ে রিপন কালামপুরের দিকে চলে যায়।
২৫ মার্চ বিকেলে কালীগঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপন, আরমান ও সবুজকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, পাঁচ দিন পর দিঘুলিয়া চক এলাকা থেকে একটি বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পিবিআই বলছে, উদ্ধার হওয়া মস্তকটি রফিক মিয়ার কিনা তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।