বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ধর্মশিং চাকমা হত্যার ঘটনায় সন্তু লারমার অপসারণ ও বিচার দাবি গোপালগঞ্জে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতের সমন মতলবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বহিষ্কার চৌদ্দগ্রামে রাতের আঁধারে মাটি কাটার দায়ে, দুইজনের কারাদন্ড, এস্কেভেটর-ড্রাম ট্রাক জব্দ উজিরপুর মডেল থানার ৩ কনস্টেবলের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফুলবাড়ীতে উন্নত জাতের ধান চাষে প্রদর্শনী, বাসমতিসহ ১২ জাতের সম্ভাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মুন্সীগঞ্জে গণশুনানি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় সিলেটে বিএনপির নেত্রী ও সাংবাদিক সেজে স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী চৌদ্দগ্রামে আগুন দিয়ে গৃহবধুকে হত্যার ঘটনায়, ঘাতক স্বামী জাবেদ গ্রেফতার ফুলবাড়ীতে আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ হাটবাজার, বাড়ছে দুর্ঘটনা

মতলবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মতলব উত্তর উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি। ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউএনও ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মামুন মিয়া রাড়ীকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, মো. মামুন মিয়া প্রায় দুই-তিন বছর আগে মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অনেক সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করতেন।
তারা আরও জানায়, সবসময় তার ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো এবং বিষয়টি একাধিকবার অন্য শিক্ষকদের কাছে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানায়। ইউএনও সরেজমিনে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করে।

মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য মাদ্রাসায় পাঠাই। কিন্তু যদি শিক্ষকরাই এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে সন্তানের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে?

একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষার্থীরা ভয় ও লজ্জার কারণে অনেক সময় এমন ঘটনা বলতে পারে না। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় আমরা ইউএনও মহোদয়ের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। তবে আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

অভিযুক্ত মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়া বলেন, মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী ছদ্মনাম (পরী) গত ২মাস আগে বিয়ে হয়ে যায়। তার বিয়ে হয়ে যাওয়াটা আমি নিতে পারি নাই, আমি তাকে খুব পছন্দ করতাম। তার পরিবারের সাথে আমার পারিবারিক সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু আজকে মাদ্রাসার ওয়াশরুমে দরজা বন্ধ করে আমি কিছু করি নাই।

ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে সরেজমিনে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: