মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্ব শুরু হতেই মাঠে জমে উঠেছে তীব্র লড়াই। এখানে প্রতিটি মুহূর্তেই যেন অগ্নিপরীক্ষা-একটিমাত্র ভুল পদক্ষেপে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম। কেউ এখানে ট্র্যাজিক হিরো হয়ে বিদায় নেবেন, আবার কেউ নিজের নাম লিখিয়ে যাবেন অমরত্বের পাতায়।
এবারের গ্রুপ পর্বে ফুটবল বিশ্বের বাঘা বাঘা তারকাদের ছাপিয়ে একক আধিপত্য দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসি। ৩ ম্যাচে ৬ গোল করে তিনি টুর্নামেন্টে যেন বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৯টি গোল করার অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি।
বিশ্ব ফুটবলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা ৩৯ বছর বয়সি এই ফুটবলারের গোলসংখ্যা বর্তমান বিশ্বের সেরা তিন তরুণ তুর্কি-কিলিয়ান এমবাপে (৪ গোল), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৪ গোল) এবং আর্লিং হালান্ডের (৪ গোল) চেয়েও বেশি।
মাঠের পারফরম্যান্সের ডাটা বা উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে ফিফা এবার চালু করেছে নতুন খেলোয়াড় মূল্যায়ন পদ্ধতি ‘পাওয়ার র্যাঙ্কিং’। তবে অবাক করার বিষয়, গ্রুপ পর্ব শেষে এবং রাউন্ড অব ৩২ শুরুর আগে প্রকাশ পাওয়া এই তালিকায় দেখা যায়, ৬ গোল করলেও আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে এক নম্বরে নেই আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এমনকি কিলিয়ান এমবাপ্পে বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিতে পারেননি।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই পাওয়ার র্যাঙ্কিং মূলত পুরো টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ প্রতি পারফরম্যান্সের সামগ্রিক মূল্যায়ন। এখানে আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের তিনটি ক্যাটাগরিতে (আক্রমণ, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগ) ০ থেকে ১০-এর স্কেলে স্কোর দেওয়া হয়। (গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে বল পজেশন ও গোল বাঁচানোর দক্ষতার ওপর নম্বর দেওয়া হয়)।
ফিফার সর্বশেষ এই পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে ১ নম্বর স্থানটি দখল করেছেন জার্মানির দেনিজ উন্দাভ। রাউন্ড অব ৩২-র খেলায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে জার্মানি বিদায় নিলেও ভিএফবি স্টুটগার্টের এই তারকা উইঙ্গার আক্রমণভাগে ৮.৩৬, সৃজনশীলতায় ৬.৭৮ এবং রক্ষণে ৪.৭ স্কোর পেয়ে শীর্ষে স্থান করে নিয়েছেন।
অপরদিকে, ৮.৩৪ (আক্রমণ), ৬.৪৩ (সৃজনশীলতা) এবং ৫.১৪ (রক্ষণ) স্কোর নিয়ে তালিকার ২ নম্বরে রয়েছেন লিওনেল মেসি।
এছাড়া ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮.১৩, ৭.২৫, ৪.৫৯) এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৭.৯২, ৬.৩) যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৫.৭২, ৪.৯৮ ও ৪.৭৪ স্কোর নিয়ে তালিকার ৭৯ নম্বরে অবস্থান করছেন।
জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের হয়ে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হয়ে এসেছিলেন ২৯ বছর বয়সি স্ট্রাইকার দেনিজ উন্দাভ। তবে তার এই সাফল্যের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক আবেগঘন মানবিক গল্প। ইয়াজিদি ও কুর্দি বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার বিশ্বমঞ্চে এমন দুটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাদের নিজস্ব কোনো দেশ বা ফুটবল দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার বাস্তব কোনো সুযোগ নেই।
গ্রুপ পর্বে জার্মানির হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে উন্দাভ নিজে ৩টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও ২টি গোল করিয়েছেন। যার ফলে গোল ও অ্যাসিস্টের দিক থেকে তিনি লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো মহাতারকাদের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন।