মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টাকা দিয়েও মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল, মুরগির দামে আগুন কালিয়াকৈরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীর উপর অমানসিক নির্যাতন মামলায় স্বামী জেলখানায় লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে জীবন বীমার আওতায় আনলো পৌরসভা উজিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু জামিয়া ইমদাদিয়া ঢাকিরকান্দা ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসায় দূর্নীতির অভিযোগ; সাবেক কমিটি হিসাব দিতে গড়িমসি লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), লৌহজং কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক চাঞ্চল্যকর বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৫ সাটুরিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ২০২৬ ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত সুবর্ণচরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংবাদটি একটি গুজব: জনগণকে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ

টাকা দিয়েও মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল, মুরগির দামে আগুন

অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মিনিকেট ছাড়া অন্যান্য মোটা চালের দাম কমলেও ডাল, সবজি ও মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট আর পাকিস্তানি মুরগির লাগামহীন দামে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী পৌর বাজারে এখন নিত্যপণ্যের দামের লড়াই চলছে। একদিকে প্রশাসনের টাঙানো মূল্য তালিকা ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও, অন্যদিকে সরবরাহ সংকট আর দরদামের মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, টাকা দিয়েও মিলছে না ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি বা পাকিস্তানি মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকার বেশি বেড়ে যাওয়ায় আমিষের বাজারেও বিরাজ করছে তীব্র অস্থিরতা। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সয়াবিন তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য দেওয়ার ট্যাগিং বাণিজ্য আর প্রতিটি নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্তের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন পরিবেশক জানান, কোম্পানীর নানা ধরনের শর্তারোপের কারণে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেকটি কোম্পানীর কাছ পরিবেশকরা বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে গেলে সঙ্গে একই কোম্পানীর চাল, ডাল, চিনি, সুজি, লবনসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাপিয়ে দেওয়া পণ্যের বাজারে তেমন চাহিদা না থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লোকাসানে পড়ছেন। এ কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী কোম্পানীর পরিবেশকের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।

ফুলবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী উত্তর সরকার বলেন, তেলের সরবরাহ এখন এতটাই কম যে আগে যেখানে দোকানে শুধুমাত্র ১লাখ টাকার সয়াবিন তেল বিক্রি হতো, সরবরাহ সংকটে এখন তা নেমে এসেছে ২৫ হাজারে।
খুচরা বিক্রেতা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১ লিটার রূপচাঁদা ১৯২ টাকায় কিনে ১৯৫ টাকায়, ২ লিটার ৩৮৪ টাকায় কিনে ৩৯০ থেকে ৩৯৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু ৫ লিটারের বোতল এক হাজার টাকা দিয়েও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের সংকটের এই সুযোগে চিনি ও ডালের বাজারও উর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহে ১০০ টাকা থাকা চিনি চলতি সপ্তাহে ১০৩-১৫০ টাকা টাকা এবং ১৩০ টাকার মসুর ডাল ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আমিষের বাজারে যেখানে সাধারণ মানুষ ভিড় করতেন একটু স্বস্তির খোঁজে, সেখানেও এখন আগুনের আঁচ। বিশেষ করে পাকিস্তানি বা সোনালি মুরগির দাম গত এক সপ্তাহে হু হু করে বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৩২০ টাকায় বিক্রি হওয়া এই মুরগি এখন ৩৩০ থেকে ৩৩৫ টাকা কেজি। একইভাবে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজির দেশি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়।
পৌর বাজারের মুরগি পট্টির মুরগি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন ও শের আলী বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন আর রোগের কারণে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে, এর ওপর সরবরাহ কম। তাই দামটা একটু বেশি। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬০ টাকা এবং লেয়ার ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের সরবরাহ নিয়ে মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার বলেন, গত বছরের চেয়ে সরবরাহ ভালো, দামও কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা কম। তবে বাজারে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা আর ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ রয়েই গেছে। মাছের বাজারের অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রুই ৩৫০, কাতল ৩২০ টাকা, টেংরা ৬০০, বোয়াল ১০০০, সউল ৭০০, মাগুর ৬০০ এবং পবদা ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এই বাজারের সবজি ব্যবসায়ি হারুন উর রশীদ জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামেও বড় রদবদল হয়েছে। গত সপ্তাহে ৬০ টাকার বেগুন এখন ৮০ টাকা, ৩০ টাকার টমেটো ও পেঁপে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন পটল ৯০ টাকা হলেও আলুর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকায়। পেঁয়াজের দাম মানভেদে কেজি প্রতি ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মশলার বাজারে দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সয়াবিন তেলের এই সংকটের নেপথ্যে উঠে এসেছে ট্যাগিং বাণিজ্যের এক নতুন কৌশল। ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক মো. আব্দুল কাইয়ুম আনসারী বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববাজারের জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধকে দায়ী করলেও তেলের সাথে অন্য পণ্য চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি জানান, ডিপো মালিকরা এখন শর্ত দিচ্ছেন যে তেল নিতে হলে সাথে চাল, আটা, ময়দা বা সুজি নিতে হবে যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির সভাপতি আহমেদ হাছান বলেন, ফুলবাড়ীতে যে কেউ অযাচিতভাবে কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি করা হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: