বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মিল্কভিটা চেয়ারম্যান শাতিল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ সুবর্ণচরে ৬১৫ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘সাতক্ষীরা কমিউনিটি গ্রুপ’র পোস্টার ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ায় ১৬৪ পিস নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিলো কাতার, না মানলে শাস্তি শনিবার খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার: সংসদে এক ম্যাচে যত রেকর্ড গড়লেন মেসি কালিয়াকৈরে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, যানবাহন চলাচলে ধীরগতি গোপালগঞ্জে ওভারটেক করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন ১, আহত ৩০

কল্যাণপুরে কম্ফোর্ট কামালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

মো. রফিকুল ইসলাম রাফি, নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুর থানাধীন কল্যাণপুর নতুন বাজার ও পোড়া বস্তি এলাকায় মো. কামাল হোসেন ওরফে ‘কম্ফোর্ট কামাল’-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দোকান ও ভূমি দখল, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. কামাল হোসেন নিজেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কল্যাণপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, দোকান দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কল্যাণপুর নতুন বাজারের দেশ সময় সুপার মার্কেটের একাধিক দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন পিচ্চি কামাল, মো. আরিফ, নাজমা আক্তার ভূঁইয়া এবং আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বস্তিবাসী।

ভুক্তভোগী নাসিমা আজাদ অভিযোগ করেন, তিনি দেশ ওয়াকফ সময় প্রপার্টিজ লিমিটেড থেকে বরাদ্দ পাওয়া একটি দোকান দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কামাল হোসেন নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দোকানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় ২২ মাসের ভাড়া বাবদ এক লাখ দশ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে মার্কেট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তিনি ডিএমপি কমিশনার বরাবরও অভিযোগ দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

আরেক অভিযোগকারী নাজমা আক্তার ভূঁইয়া জানান, দোকান ভাড়া নিতে গেলে তার কাছ থেকেও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরিবারকে ক্ষতির হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার স্বামীকে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায়ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে কম্ফোর্ট কামালের চাঁদাবাজি ও দখলবাজি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বাজারের চা দোকান, মাছ, মুরগি, সবজি, ফল, পান, সেলুনসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কল্যাণপুর নতুন বাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুদ্দীন হাওলাদার বলেন, কামাল হোসেনের হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকজন ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ প্রতিবাদ করলে পুলিশি ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি বিরোধিতা করলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দেশ ওয়াকফ সময় প্রপার্টিজ ও দেশ সময় সুপার মার্কেটের পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দোকান দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মালামাল নামানো ও ব্যবসা পরিচালনা নিয়েও চাঁদা দাবি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. কামাল হোসেন ওরফে কম্ফোর্ট কামাল অভিযোগ অস্বীকার না করে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় উল্টো হুমকিমূলক আচরণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি যা ইচ্ছা তাই করবো, নিউজ করে কিছুই করতে পারবেন না।”

কল্যাণপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি সপন আহমেদ সাকিল বলেন, “কামাল হোসেন বিএনপির কেউ নন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে দল তা সমর্থন করে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে।”


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: