শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

কুরবানিতে ২২ থেকে ২৩ লাখ পশু অবিক্রীত

বাঙলার জাগরণ ডেস্ক : ঈদুল আজহার কোরবানির হাট শেষ হয়ে এলেও দেশের বিভিন্ন পশুর হাট থেকে এখনো ট্রাকে ট্রাকে ফিরছে অবিক্রীত গরু। রাজধানীর গাবতলী, কমলাপুর ও দিয়াবাড়ীসহ বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বড় গরুর সারি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ক্রেতার অভাবে লোকসান গুনে অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী গরু বিক্রি করলেও, অনেকে বাধ্য হয়ে অবিক্রীত পশু ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে ১ কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ পশু অবিক্রীত রয়ে গেছে।

খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বড় গরুর চাহিদা হ্রাস এবং সীমান্ত দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের কারণে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও কাদাময় হাট পরিস্থিতি বিক্রিকে আরও জটিল করে তোলে।

মানিকগঞ্জ থেকে গাবতলী হাটে ৫০টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ১৮টি। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কোরবানি হয়ে গেছি।’

বগুড়া সদর থেকে ২৫টি গরু নিয়ে আসা খামারি মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সব গরুই বড় ছিল। সবগুলোই লোকসানে বিক্রি করেছি। যে গরুর পেছনে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সেটি ঢাকায় এনে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিলয় হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, ফলে কোরবানি কিছুটা কমেছে। তার ভাষায়, বড় গরুর বাজার প্রায় ভেঙে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৯৮ শতাংশ কোরবানিতে ছোট গরু ব্যবহৃত হয়, যা মূলত প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন করেন। বড় করপোরেট খামারগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা ছোট গরুর উৎপাদনে যায় না।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান বলেন, এখনও কোরবানি হওয়া পশুর চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত হয়নি। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আসছে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: