বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
মানিকগঞ্জ শিবালয় উপজেলার কাসাদহ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় তারা প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং খাল পুনঃখনন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে শিবালয় উপজেলার কাসাদহ খালে আয়োজিত পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দুই মন্ত্রী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও নানা কারণে দেশের অনেক নদ-নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পানি বণ্টনে বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। ফলে অনেক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং সেগুলো ক্রমেই নাব্যতা হারিয়ে ফেলছে। তিস্তা নদী বর্তমানে প্রায় মরুভূমির রূপ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের নদ-নদী পুনরুদ্ধার, নাব্যতা বৃদ্ধি এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
খাল ও নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণের কারণে অনেক নদী আজ খালে পরিণত হয়েছে। আবার অনেক খাল ভরাট হয়ে তাদের স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। এসব জলাধার পুনরুদ্ধারে সরকার দেশব্যাপী খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।”
চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আগাম ও অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং আগামী শুকনো মৌসুমে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এসব খালকে পুনরায় সচল করা।”
খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা দুর্নীতির সংস্কৃতি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। খাল খনন বা অন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিদর্শন শেষে দুই মন্ত্রী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও সাটুরিয়া উপজেলার আরও দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের করেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।