মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : বীমা দাবির ৬ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জুলাই) লক্ষ্মীপুর সদর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান।
মামলার আসামিরা হলেন বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড চীফ এক্সিকিউটির অফিসার মুন্সী মনিরুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আনিছুর রহমান সুমন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সামছুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের ম্যানেজার জাকির হোসেন, ইনচার্জ রিয়াজ হোসেন, হিসাবরক্ষক আয়াত উল্যা ও প্রতিষ্ঠানটির জকসিন বাজার কার্যালয়ের ইনচার্জ তৈয়ব রহমান৷
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তরের আদেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শাহজাহানের স্ত্রী পারভীন আক্তারের নামে ওই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১০ বছর মেয়াদে ৬ লাখ টাকার একটি স্বাস্থ্য বীমা পলিসি করা হয়। ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন, বীমার মেয়াদকালে কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যু ঘটলে পলিসির সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ী বাদী গেল ২৬ মাস ধরে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছেন। ২৬ কিস্তি পরিশোধের পর বাদীর স্ত্রী স্ট্রোকে মারা গেলে তিনি লক্ষ্মীপুর শাখায় বীমার মৃত্যুদাবির আবেদন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে নানা অজুহাতে দাবি নিষ্পত্তি না করে হয়রানি করেন। একপর্যায়ে তারা জানিয়ে দেন, প্রধান কার্যালয় থেকে টাকা অনুমোদন হবে না।
বাদী শাহজাহান অভিযোগ করে জানান, ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তারা প্রতারণার মাধ্যমে তার বিশ্বাসভঙ্গ করে ৬ লাখ টাকার বীমার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাই তিনি আদালতের দারস্থ হয়েছেন৷
বাদী পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ইস্রাফিল হাসান বলেন, বীমা পলিসির নামে বাদীর সাথে প্রতারণা করা হয়েছে মর্মে আদালতে এজাহার দায়ের করেন। আদালত এজাহারটি গ্রহণ করে সদর থানার ওসিকে তদন্ত করার আদেশ দিয়েছেন৷
এ বিষয়ে বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের ডেপুটি প্রজেক্ট হেড মো. জিলকদ হোসেন রিয়াজ বলেন, পলিসি করার সময় পারভীন আক্তার অসুস্থতার তথ্য গোপন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। কিন্তু আমাদেরকে জানানো হয়েছে, তিনি স্টোক করে মারা গেছেন। তাই তথ্য গোপন করার কারণে তার বীমা দাবিটি বাতিল হয়েছে। একজন অসুস্থ ব্যক্তির নামে বীমা হয়না।