শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ওপর বিচারক কর্তৃক পেপার ওয়েট নিক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা বিক্ষোভ ও বিচারক অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) আদালতে একটি মামলার শুনানি চলাকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে সাবিহা সুলতানা নামে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যরা বিচারিক কার্যক্রম বর্জন করে জেলা বার ভবনের সামনে সমবেত হন। পরে তারা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ শেষে বার ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে আইনজীবী নেতারা বলেন, প্রকাশ্য আদালতে একজন নারী আইনজীবীর ওপর এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও নজিরবিহীন। তারা অভিযোগ করেন, বিচারালয়ে আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।
বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্ত বিচারক সুজন মিয়ার দ্রুত অপসারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির আন্দোলন ও বিচারকাজ বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিচারক সুজন মিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আদালত সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাঁর বিচারিক (আমলি) ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।