বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ ও সুপেয় পানির সংকট এবং সাত বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। একসময় ৬৭৫ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ১৬০ জন।
২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ১৬ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০১৯ সাল থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পাঠদানের অনুমোদন পেলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়ে। একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চলছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, খেলার মাঠ ও সুপেয় পানিরও সংকট রয়েছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষকরা নিজস্ব খরচে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিদ্যালয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন করে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আবারও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে।