মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দল কিনলেন গেইল রাশেদ খাঁন – যে অল্প কয়েকজন মেয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকতেন, পাপন আপা তাদের একজন দুর্নীতি মামলায় বিপাকে গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী নুসরাত ট্রাম্পকে বাগাড়ম্বর না করার আহ্বান পাকিস্তানের গ্রাহকবান্ধব গ্যাস সরবরাহে নতুন নির্দেশনা নয়াকান্দি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা : নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ ফুলবাড়ীতে বৈধ বালু মহাল না থাকায় নির্মাণ কাজ নিয়ে ভোগান্তি, প্রতি বছর বিপুর অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৩০০ টাকার পেট্রল পেলেন পল্লী চিকিৎসক মুন্সীগঞ্জ জেলার জ্বালানি তেলের চাহিদা, মজুদ, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং

অসহনীয় চাঁদাবাজি সম্মিলিত প্রতিরোধ জরুরি

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁদাবাজি। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এমনকি গণপরিবহণ—কোথাও এই অবৈধ দৌরাত্ম্যের হাত থেকে মুক্তি নেই। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। পণ্যবাহী ট্রাককে পথে পথে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হলে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হয় ভোক্তাকেই।

সম্প্রতি পুলিশ ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—চাঁদাবাজদের তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্তর্বর্তী সময়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তার পর এখন চাঁদাবাজ চক্র ভাঙতে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে—যা আশাব্যঞ্জক।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং প্রশাসনের দৃঢ়তার ওপর। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, তথ্যদাতার পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা অপরাধীদের প্রতিশোধের শিকার হয়েছেন। তাই কেবল তথ্য আহ্বান করাই যথেষ্ট নয়; তথ্যদাতার শতভাগ নিরাপত্তা ও পরিচয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রথম দায়িত্ব।

ব্যবসায়ীরা তখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবেন, যখন তারা দেখবেন—তথ্য দেওয়ার পর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো অপরাধী রাজনৈতিক বা অন্য প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে না। চাঁদাবাজ যে দলেরই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সরকারি মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

চাঁদাবাজি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। এতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়, কর্মসংস্থান কমে যায় এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

আমরা মনে করি, পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে পুলিশ এই অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু আইনগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধও। ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই চাঁদাবাজি দমন সম্ভব।

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, তারা যেন এই সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান সমাধানের পথে এগিয়ে যায়।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: