শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাহে রমজানের শুরু থেকেই খিরার দাম দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় আশানুরূপ দাম পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে খিরা চাষিদের। রমজানের আগে প্রতি কেজি খিরা প্রকার ভেদে ১৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হলেও রমজাদেনর প্রথম দিন থেকেই একই খিরার দাম প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে।
খিরা চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কমবেশি সারা বছরই খিরার চাষিদা থাকলেও রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম মুখরোচক খাদ্য উপকরণ হিসেবে এর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ বেশি। এ কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে খিরা ও শসার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে যায়।
উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক পরীক্ষিত চন্দ্র রায় বলেন, ৫০ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের খিরা চাষ করেছেন। সবমিলিয়ে তার খরচ হয়ে ৬০ হাজার টাকা। তবে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না আসায় খিরার মান ও ফলন দুই-ই ভালো হয়েছে। দামও ভালো থাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছেন। এখন পর্যন্ত জমিতে যে পরিমাণ খিরা রয়েছে তাতে আরও ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।
উপজেলার বুজরুজ সমশেরনগর গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, তিনিসহ এলাকার বেশ কয়েকজন চাষি বেশ কয়েকটি জাতের খিরা চাষ করেছেন। খিরার ফলন ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে খিরার দাম কম পাওয়া গেলেও এখন আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর খিরা আবাদ করে প্রত্যেক খিরা চাষি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলার পৌর এলাকারসহ সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে খিরা ও শসা আবাদ করা হয়েছে। আবাদের প্রথম থেকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে। গত রমজানে খিরা ও শসার দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর এলাকার চাষিরা গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে খিরা ও শসা চাষ করেছেন। রোগবালাই কিংবা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না আসায় খিরার আকার প্রকার ও ফলন দুই-ই ভালো হয়েছে। এ ছাড়াও বাজারে খিরার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে খিরা ও শসার আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।