বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জে ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। এখনো পুরোপুরি জমজমাট বেচাকেনা শুরু না হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে হাটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের আমেজ।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু এসে পৌঁছাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের হাটগুলোতে।
মঙ্গলবার (২৬মে) সরজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জের মুন্সীরহাট বাজার,বিসিক, ধলাগাঁও বাজার, টঙ্গী বাড়ী বাজার,দীঘিরপাড় বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে দেখা যায় ক্রেতার তুলনায় পশু অনেক। তবে এখনই কোরবানির পশু কেনার সিদ্ধান্ত নেননি মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দারা। তারা বলছেন, ঈদের এক দিন আগে কোরবানির পশু কিনবেন। কোরবানির পশু লালনপালন করার মতো পরিবেশ বাসাবাড়িতে নেই। তবে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গরু দেখতে হাটে যেতে ভুল করেননি তারা। চম্পা আক্তার বলেন, ‘দেশি ও সুন্দর রঙের গরুর দাম অনেক বেশি। সাড়ে পাঁচ মণের একটি গরুর দাম চাচ্ছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাই বাজেট অনুযায়ী ছোট গরু দেখছি।’
সিরাজগঞ্জ এলাকা থেকে আসা গরুবিক্রেতা সুমন দেওয়ান ভোর রাতে হাটে পৌঁছেছেন। সঙ্গে এনেছেন ২০টি গরু। গরুগুলোকে খড় খাওয়ানোর ফাঁকে তিনি বলেন,’মানুষ আসে, গরু দেখে, দাম জিগায়। কিন্তু এখনো কেউ গরু কিনতেছে না। সবাই মনে হয় বাজার বুঝতেছে। তবে আশা করি, আজ ও আগামীকাল জমে উঠবে।’
জানা যায়, জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৭১১টি পশু। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা যায়,এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৪৪ হাজার ২৬২টি এবং ছাগল-ভেড়া রয়েছে ২৩ হাজার ৪৪৯টি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ৬ টি উপজেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা পশুই এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৯হাজার ৬৫৮ পশু, টঙ্গীবাড়িতে ২১হাজার ৯৮২, লৌহজংয়ে ৮হাজার ২২০, গজারিয়ায় ১২হাজার৭,সিরাজদিখানে৬ হাজার ৭১, শ্রীনগরে ৯হাজার ৭৬৮ পশু সহ জেলায় জবাইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৬৭হাজার৭১১ পশু। আর চাহিদা রয়েছে ৬০হাজার৭৯৫ পশু। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমে জেলার কোরবানির চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বাইরের জেলার পশুর ওপর নির্ভরতাও কমবে। এছাড়া খামারিদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার রোধে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে গত বছরের মতো এবারও মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নিবন্ধিত ২০৫টি এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য প্রায় ১৫৪ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন লবণের চাহিদা
নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম ও কন্ট্রোল রুম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কসাইদের সঠিক নিয়মে পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম. এ জলিল জানান, জেলায় আমাদের জনবল সংকট থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও তদারকি করছেন। খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোনো পশুকে যেন কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা না হয়, সে বিষয়ে আমরা বিশেষ নজরদারি রাখছি। পাশাপাশি ক্রেতাদের সুবিধার্থে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও কোরবানির পশু কেনাবেচার সুযোগ রাখা হয়েছে।”