শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

উত্তরের চার জেলায় বৃষ্টি না থাকায় লক্ষাধিক হেক্টর আবাদী জমি ফেটে চৌচির

স্টাফ রিপোর্টার :: উত্তরের চার জেলায় চলতি মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লক্ষাধিক হেক্টর আবাদী জমি শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সাধারণত প্রতিবছর জুন জুলাই তে রোপা আমন রোপন শুরু হলেও এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বৃহত্তর দিনাজপুরের জেলাগুলিতে এখনো আমন রোপন সম্ভব হয়নি। বেশ কিছু এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় যে জমিতে কৃষক রা সেচ পাম্পের সাহায্যে রোপন করেছে সেই এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হবার কারনে ফসলি জমি গুলি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে বৃহত্তর দিনাজপুরের চার জেলার মধ্যে পঞ্চগড়ের বেশ কিছু এলাকায় সমস্যা না থাকলেও জেলার দক্ষিন ও দক্ষিন পশ্চিম এলাকা এবং ঠাকুরগাও, দিনাজপুর ও নিলফামারির অধিকাংশ এলাকা এখনো আমন রোপনের আওতায় আসেনি। যদিও সম্পুরক সেচের মাধ্যমে পচিশ থেকে ত্রিশ ভাগ জমি রোপিত হয়েছে কিন্তু রোপনকৃত জমিতে সেচ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেনা কৃষক। ফলে লক্ষাধিক হেক্টর আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, নস্ট হয়ে জাচ্ছে রোপা, উপদ্রপ বাড়ছে রোগবালাই ও পোকামাকড় এর। গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে বৃষ্টির জন্য দোয়া ও মুনাজাত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে মৌশুমি বৃষ্টিপাত জুনের মাঝামাঝি থেকে প্রভাব ফেললেও উত্তরের এই জেলাগুলিতে এখনোও আশানুরূপ বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়ার এমন অবস্থায় পাট চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। পাট কেটে জাক দেয়ার মত যথেষ্ট পানি না পাওয়াতে পাট গাছ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। চাহিদামত বৃষ্টি না হওয়ায় খালবিল বা জলাশয়গুলিতে পানি জমেনি। এই অঞ্চলের বেশ কিছু কৃষকের সাথে কথা হয় কম বৃষ্টিপাত সম্পর্কে। -গতবারের তুলনায় বৃস্টি এবার আকাশ জমিন তফাৎ, গেলবার এমন সময় ক্ষেত থেকে জল বের করার লাগিছে আর এইবার স্যালো দিয়া পানি দিয়াও জমি ফাটে যাছে তাছাড়া আসমানের পানি ভিটামিনের মত, স্যালো দিয়া কি আমন ধান আবাদ করা যায়? খানসামার কৃষক রতন চক্রবর্তী বলেন।

একটি বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা (BWOT) এর প্রধান গবেষক পারভেজ আহমেদ পলাশ বলেন -বৃহত্তর দিনাজপুরে গত বছরের তুলনায় এবার সাত ভাগের এক ভাগ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্তমান সময়ে উক্ত অঞ্চলে কমপক্ষে তিনশ মিলিমিটার বৃস্টি প্রয়োজন। তবে আশার কথা যে, আগামিকাল থেকে হালকা বৃস্টি ও আগামি ২৯,৩০ ও ৩১ জুলাই মোটামুটি মাঝারি ধরনের (গড়ে ৭০ থেকে ১০০ মিলিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এতে করে কৃষকের সম্পুর্ণ পানির চাহিদা না মিটলেও কিছুটা পুরন হবে আশাকরি।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, দিনাজপুর এর উপ-পরিচালক প্রদিপ কুমার গুহ জানান জেলার খানসামা, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, কাহারোল ও বোচাগঞ্জে কিছুটা সমস্যা হলেও অন্যান্য উপজেলাতে সমস্যা নেই। তিনি আরোও জানান জেলায় আমন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লক্ষ ষাট হাজার দুইশত তেষট্টি হাজার হেক্টর, এপর্যন্ত প্রায় ষাট হাজার হেক্টর জমি রোপন হয়েছে যা গত বছর এর চেয়ে বেশি। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে বৃস্টি হলে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠবে।

কম বৃস্টিপাত সম্পর্কে কথা বলেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ঠাকুরগাও এর উপ-পরিচালক মোঃ আবু হোসেন বৃস্টি কম হলেও আমন রোপন থেমে নেই, সম্পুরক সেচ মাধ্যমে এ পর্যন্ত গতবছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি জমিতে আমন রোপন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উচু জমিগুলিতে রোপন কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে তবে সেচ যন্ত্র দিয়ে কৃষকরা রোপন করছে। এ কারনে উৎপাদন খরছ কিছুটা বাড়লেও বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। বর্ষার শেষ দিকে বন্যার প্রসংগে বলেন ঠাকুরগাও বন্যার জন্য সেফজোন, খুব বড়ধরনের জলাবদ্ধতা না হলে কৃষক রা ভাল ফলন পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি