বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

আলোকবর্তিতা বঙ্গমাতা’র ৯১তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা ও কুর্নিশ

সুমি খান

একাত্তরের গেরিলা বঙ্গমাতা ছিলেন এক মহান রাজনীতিক , যিনি মাত্র ৩ বছর বয়সে মাতৃহারা হন, মাত্র ৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর জীবন শুরু করেন। সেই শিশু রেণু নিভৃত নীরবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, শক্তি হয়ে পাশে থেকেছেন গোটা জাতির। যাঁর ভূমিকা আড়ালেই ছিল চিরকাল!

একাত্তরের ৯টি মাস গৃহবন্দী অবস্থায় এক গভীর অন্ধকারে থেকে ও অসীম সাহস এবং আত্মবিশ্বাসে সহযোগিতা করেছেন বিপন্ন নিপীড়িত জনগণকে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দেন বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে

বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশ এক সূত্রে গাঁথা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এক অবিচ্ছেদ্য নাম। যেভাবে নজরুল লিখেছেন, “কোনকালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরেণা দিয়াছে ,শক্তি দিয়ছে বিজয়লক্ষ্মী নারী।”

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে জীবন মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটানো বঙ্গবন্ধুর প্রতি সাধারণ স্ত্রী দের আকাঙক্ষা ,দাবি সবকিছু প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন দেশমাতৃকার পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনে।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার রেণু আমার ৫টি সন্তানের জননী নয়; আমার রেণু আজ বাংলাদেশের লাখো লাখো সন্তানের জননী-(আমার রেণু-পৃষ্ঠা -১৬৮) এই মহীয়সী নারীকে নিয়ে কোন আলোচনাই কখনো করা হয় নি জিয়া-মুশতাক-ফারুক-রশীদ ঘাতকদের সুদূরপ্রসারী সুগভীর ষড়যন্ত্র এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কারণে। অথচ তিনি না হলে স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু , তাঁর সুযোগ্য সন্তানেরা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বীরোচিত ভূমিকা রাখতে পারতেন না।

তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতা বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতার সকল রকম গুণের সমাহার। যাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন অতিমারির সংকটকালেও বিশ্বসভায় উঁচু আসন জয় করে নিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর কনিষ্ঠ বোন বঙ্গমাতার আরেক সুযোগ্য কন্যা শেখ রেহানা প্রতি মুহূর্তে বিপন্নতা জেনে ও কঠিন সংকটে তাঁর সন্তানদের শিক্ষায় জ্ঞানে , মানে গড়ে তুলেছেন, যাঁরা আজ বিশ্বসভায় সুপ্রতিষ্ঠিত। ঘাতকেরা এখানেই আজ পরাজিত। তবে এখনো বিপন্ন বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী প্রজন্ম। তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন ,আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে এসে বললো, বসেই তো আছো, এই ডায়েরিতে লিখো । ” সেই অসমাপ্ত ডায়েরিতে বঙ্গবন্ধু তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু সেই ডায়েরীর পাতায় পাতায় তুলে ধরেছেন, জীবনের প্রতিটি সংকটে প্রতিটি পদক্ষেপে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন বঙ্গমাতা রেণু। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামে বঙ্গমাতা’র ভূমিকা বারবার উল্লেখ করেছেন।

বঙ্গমাতা এতোটাই সাধারণ জীবন যাপন করতেন, কখনো সুতি শাড়ি ভিন্ন অন্য শাড়ি পরেন নি। জীবনে একদিন তিনি কাতান শাড়ি পরেছিলেন , ইন্দিরা গান্ধী যেদিন বাংলাদেশে এসেছিলেন, ১৯৭২ সালের মার্চে । ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি ধীরে ধীরে নির্মিত হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকা থেকে ফিরে যাবার সময়ে বিমান থেকে নেমে এসে বঙ্গবন্ধুকে বলেন, মুজিব, তোমার বাড়িটা হেবা করে স্ত্রীকে লিখে দাও। পকেট থেকে কিছু টাকাও দিয়ে যান রেজিস্ট্রি খরচ। ১৯৬২ সালের দিকে হেবা করতে হলে কাবিননামা দরকার ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সেই কাবিননামা থেকেই তাঁরা বঙ্গমাতা’র জন্ম তারিখ জানতে পারেন।

সেই জমি ১৯৫০ সালে পান তাঁরা। সেখানে বাড়ি তৈরি করার সময়ে রাজমিস্ত্রিদের সাথে বিনয়ের সাথে আচরণ করতেন বঙ্গমাতা। তাঁদের আপ্য়ায়ন করাতেন। তাদের সাথে বঙ্গমাতা কোমরে আঁচল গুঁজে বাড়ি তৈরির কাজে সহযোগিতা করেছেন। সেই বাড়ির প্রতিটি ইটের সাথে বঙ্গমাতার শ্রম মিশে আছে। সেই বাড়ি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর রাজাকার বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দেয় অনেকটা। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি কাজে বঙ্গমাতার পরামর্শ নিতেন। বঙ্গমাতা বলতেন, তুমি সারাটা জীবন মানুষের জন্যে সংগ্রাম করেছো, তুমিই ভালো জানো কী বলতে হবে।

বার্ট্রান্ড রাসেল এর ফিলসফি পড়ে বঙ্গবন্ধু বাংলায় শোনাতেন বঙ্গমাতাকে। তিনি চাইতেন বিশ্ব দর্শন যেন নারী রা জানতে পারে , জ্ঞান অর্জন করতে পারে। তিনি নিউমার্কেটের বইয়ের দোকানে গিয়ে নিয়মিত বই কিনতেন। তাঁর নামেই কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল এর নাম রাখেন তাঁরা।

ইন্দিরা গান্ধীকে বঙ্গমাতা বলেছিলেন, “ আপনি হাসুর আব্বারে কইয়া যান, ঠিকমতো যেন খাওয়া দাওয়া করেন। ” ইন্দিরা গান্ধী প্রথম বুঝতে না পারলে ও পরে বুঝতে পেরে বললেন “ Mr. President I’m also maintain to take food on time. It’s a mervellous word of Bengali!..”

একাত্তরের ৯টি মাস গৃহবন্দী অবস্থায় এক গভীর অন্ধকারে থেকে ও অসীম সাহস এবং আত্মবিশ্বাসে সহযোগিতা করেছেন বিপন্ন নিপীড়িত জনগণকে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দেন বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে।

১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাংলার মানুষের কাছে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার নাম। বঙ্গবন্ধুর পুরো রাজনৈতিক জীবনে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন বলেই বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করে তা পূরণ করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শকে বাস্তবায়ন করা হতো না,যদি তাঁর ভালোবাসার রেণু নিজেকে উজাড় করে না দিতেন।

যখনই আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলি তখনই বঙ্গমাতার নাম প্রচ্ছন্নভাবে চলে আসে। পারিবারিক সূত্রে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। খোকা থেকে মুজিব, মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং সবশেষে বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে যে নারীর অবদান অনস্বীকার্য তিনি আর কেউ নন, তিনি আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন জনগণের সেবায়, দেশের কল্যাণে।

বঙ্গবন্ধুকে জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে ছিলেন। এমন বিপন্নতার মুখেও শক্ত হতে সংসার এবং রাজনীতি পরিচালনার হাল ধরেছিলেন বঙ্গমাতা। ৬ দফা হবে, নাকি ৮ দফা হবে, সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেন বঙ্গমাতা। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ৬ দফা দাবি ই জানাতে হবে;৮ দফা নয়।

সাধারণ মানুষের বোধগম্য় করে পরিষ্কার উচ্চারণে ৬ দফা ঘোষিত হয় বঙ্গবন্ধুর বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে। যা পাকিস্তানী অত্যাচারী শাসকদের কবর রচনা করে। ১৯৬৬ সনের ছয় দফা আন্দোলনের পক্ষে জনসমর্থন আদায় ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে লিফলেট হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন বঙ্গমাতা। যথারীতি নিজের অলংকার বিক্রি করে সংগঠনকে বাঁচিয়েছেন বঙ্গমাতা।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আগের রাতে বঙ্গমাতার সুনির্দিষ্ট এবং সময়োচিত দিকনির্দেশনা ছিল। সেসময়ে অনেক নেতা কর্মী উত্তেজিত ছিলেন তখনই স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার জন্যে। তখন জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো হত্যাকাণ্ড ঘটে যেতো পাকিস্তানী শাসকদের অতর্কিত হামলায়, যদি বঙ্গবন্ধু প্রকাশ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন।

আন্দোলনের উত্তাল সময়গুলোতে পরম মমতায় নির্যাতিত নেতা-কর্মী,তাদের আত্নীয় স্বজনদের নেবা যত্ন করেছেন,আপ্যায়ন করেছেন, তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। দিশেহারা নেতাকর্মীদের একমাত্র শক্তি ছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন তিনি।

স্বাধীনতার পর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং আলবদর রাজাকারগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার বীরাঙ্গনাদের পরম আশ্রয় ছিলেন বঙ্গমাতা। বলেছিলেন ,‘আমি তোমাদের মা “ অনেক বীরাঙ্গনাকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গণ বিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন জীবন দান করেছিলেন বঙ্গমাতা। বীরাঙ্গনাদের নাম গোপন রাখতে হয়েছে সামাজিকভাবে তাদের অসম্মান থেকে রক্ষা করতে।

পাকিস্তানী সেনাদের ক্যাম্প থেকে ফেরত আসা নারীদের একজন বেগম খালেদা জিয়া। পাকিস্তানী জেনারেল জানজুয়ার ক্যাম্পে ছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীন হবার পর মেজর জিয়া তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সে সময়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেজর জিয়াকে ডেকে খালেদা কে গ্রহণ করবার নির্দেশ দেন । বঙ্গমাতা পায়েস রান্না করে মেজর জিয়া কে ডেকে তার হাতে তুলে দেন তার স্ত্রী এবং সন্তান তারেকের জন্মদাত্রী খালেদাকে।

বাঙালির অধিকার আদায় ছাড়া শেখ মুজিবের কাছে প্রধানমন্ত্রীত্ব বা ক্ষমতার কোনো আকর্ষণ ছিলো না। বঙ্গমাতা নিজে সেই আদর্শে বিশ্বাস করতেন বলে সন্তানরা ও সেই আদর্শেই দীক্ষিত হন। শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তাঁর সহযোদ্ধা এবং সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রেণু,জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যিনি ইতিহাসের কালজয়ী মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের সকল কাজের সকল ভালোবাসার শক্তি ছিলেন।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে জীবন দিতে হয়ে মাত্র ৪৫ বছর বয়সী বঙ্গমাতাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের। বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলার জনগণ তাকে ‘বঙ্গমাতা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেষরাতে জীবন দেন কৃতঘ্ন ঘাতকদের বন্দুকের মুখে; বলেছিলেন , ”তোমরা বঙ্গবন্ধুকে শেষ করেছো, আমি কোথাও যাবো না, আমাকেও শেষ করে দাও। ” মৃত্যুর মুখে ও তিনি জীবন ভিক্ষা নেন নি, আলিঙ্গন করেছেন মৃত্যুকে , ঘাতকদের কাছে কোন করুণা ভিক্ষা করেন নি বঙ্গমাতা। তাঁর আদর্শ আজ সকল নারীর জন্যে অনুপ্রেরণা। দেশমাতৃকার কল্যাণে দেশ ও মাটির জন্যে কাজ করতে হবে এদেশের প্রতিটি নারীকে।

স্কুল পাঠ্যবইতে তাঁর জীবনদর্শন তুলে ধরলে কিশোর- কিশোরীরা জানতে পারবে এ জাতির মুক্তির লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গকারী নিভৃতচারী এক মহীয়সী মানবতাবাদী শিশু থেকে কিশোরী রেণুর জীবনের অজানা অধ্যায়;যা শক্তিশালী প্রেরণা হয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে বঙ্গমাতাকে ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতাকে কুর্নিশ জানাই বারবার। তাঁদের নাম চিরভাস্বর হয়ে রইলো বাংলাদেশের ইতিহাসে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক অসাধারণ মানবিক আদর্শিক নারী বঙ্গমাতা’র ৯১তম জন্মদিনে তাঁর মহান স্মৃতির প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি