সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কোহলির নতুন বিশ্বরেকর্ড সুর নরম করে ট্রাম্প বললেন, চুক্তিতে তাড়াহুড়ো নয় বরিশালে মাদকাসক্ত ছেলের দেওয়া আগুনে পরিবারের স্বপ্ন পুরে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি উজিরপুরে শিশুদের স্বপ্নচিত্র অঙ্কন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে উৎসাহমূলক উপহার বিতরণে- এমপি পরিবহন গুলোকে নিয়ম মেনে রাস্তায় চললে নিরাপদে ঈদ যাত্রা সার্থক হবে – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জেলা পর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ ইতনা গণহত্যার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে লোহাগড়ায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নির দশা বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, ব্যবহারের অভাবে কয়লার স্তূপ বাড়ছে কোল ইয়াডে

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : শনির দশা লেগেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এ কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তিন ইউনিটে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন হলেও দুইটি ইউনিট বন্ধ থাকায় একটি ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৬০ মেগাওয়াট।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তিন ইউনিটের ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শুরুরপর থেকেই কোন না কোন যান্ত্রিক ত্রুটির করণে কখনোই তিনটি ইউনিটে চালু রেখে পুরোমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। তিনটি ইউনিটের মধ্যে কখনো একটি, আবার কখনো দুইটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকছে। বর্তমানে একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও বিকল অবস্থা পড়ে রয়েছে দুইটি ইউনিট। ফলে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর নির্ভর করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও চাহিদানুয়ায়ী কয়লার ব্যবহার না হওয়ায় কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে মজুদ বাড়ছে কয়লার। কয়লার স্ত’পের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন খনি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর নির্ভর করে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ করে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এবং তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। তৃতীয় ইউনিটটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট কখনোই এক সঙ্গে সচল রাখা সম্ভব হয়নি। তিনটি ইউনিটের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিট অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় ইউনিটের মূল্যবান যন্ত্রপাতিও অকেজো হয়ে পড়ছে। আগামীতে এই ইউনিটটি আদৌ সচল করা সম্ভব হবে কি না তা খোদ সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারছেন না।

এদিকে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় ইউনিট অচল হলেও সচল ছিল এক নম্বর ও তিন নম্বর ইউনিট। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হতো। চলতি বছরের ৩০ জুলাই বয়লারের পাইপ ফেটে এক নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এ ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। বর্তমানে শুধুমাত্র তৃতীয় ইউনিটটি সচল রয়েছে। ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এ ইউনিট থেকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৭০ মেগাওয়াট। যার পুরোটাই যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক প্রকৌশলী বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার কথা থাকলেও একটি ইউনিট দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে, আর অপর দুইটি ইউনিটের মধ্যে মাঝেমধ্যেই মেরামতের জন্য একটি না একটি ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়। আবার অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রæটির কারণেও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নত হচ্ছে।

এদিকে এবার কয়লা সংকট নয়; বরং কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার মজুদ বৃদ্ধি পাওয়ায় সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কা আর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত কয়লার অনুপাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার না হওয়ায় কয়লার মজুদ দিন দিন বাড়ছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডের কয়লা সংলক্ষণের ধারণ ক্ষমতা দুই লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে মজুদ রয়েছে প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন।

কয়লাখনি সূত্রে জানা যায়, কয়লা দাহ্য পদার্থ হওয়ায় ৫ মিটারের বেশি উচ্চতায় স্তূপ করা নিরাপদ নয়। অথচ কোল ইয়ার্ডে কয়লার স্তূপের উচ্চতা বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। অতিরিক্ত মজুদের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকবার অগ্নিকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ফেলে দেওয়া যাবে না। গত ২৩ জুন থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ভূগর্ভের ১৩০৫ নং কোল ফেইজের কয়লার মজুদ শেষ হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করে ১৪০৬ নং নতুন কোল ফেইসে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে নতুন এই ফেইজ থেকেও কয়লা উত্তোলন আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে কোল ইয়ার্ডে কয়লা রাখার জায়গার সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মহাব্যবস্থাপক (জিএম-মাইনিং) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, প্রতিবছর খনি থেকে গড়ে ৮-১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা ব্যবহার করতে পারে সর্বোচ্চ সাত লাখ মেট্রিক টন। ফলে প্রতি বছরই খনির উৎপাদিত কয়লার মজুদ বাড়ছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বর্তমানে তিনটি ইউনিটের মধ্যে শুধুমাত্র তৃতীয় ইউনিট সচল রয়েছে। সচল ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তৃতীয় ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে। #


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: