সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কোহলির নতুন বিশ্বরেকর্ড সুর নরম করে ট্রাম্প বললেন, চুক্তিতে তাড়াহুড়ো নয় বরিশালে মাদকাসক্ত ছেলের দেওয়া আগুনে পরিবারের স্বপ্ন পুরে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি উজিরপুরে শিশুদের স্বপ্নচিত্র অঙ্কন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে উৎসাহমূলক উপহার বিতরণে- এমপি পরিবহন গুলোকে নিয়ম মেনে রাস্তায় চললে নিরাপদে ঈদ যাত্রা সার্থক হবে – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জেলা পর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ ইতনা গণহত্যার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে লোহাগড়ায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ীতে প্রতিক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টিতে আমন চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাবে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আমন ক্ষেত খরায় পুড়ছিল। আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষার ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে আমন চাষিদের। অবস্থা সম্পন্ন কৃষকরা ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে চাষাবাদ শুরু কললেও শুরু করতে পারেননি নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ প্রান্তিক চাষিরা। এ কারণে বীজতলায় চারা প্রস্তুত হলেও বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বেশিরভাগ কৃষককে। আমন চাষের উপযুক্ত সময় আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত হলেও শুধুমাত্র বৃষ্টিপাতের অভাবে আমন চারা রোপণ কার্যক্রমে তারতম্য ঘটেছে।

তবে টানা খরার পর কৃষকের প্রতিক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলায় আমনের চারা রোপণ কার্যক্রমে। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির পর জমিতে পানি জমেছে, আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকরা।

দিনাজপুর আবওহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, চলতি বছরে জুলাই পর্যন্ত ১হাজার ২৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে শূন্য মিলিমিটার, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ মিলিমিটার, মার্চ মাসে ০ মিলিমিটার, এপ্রিল মাসে ১৩৯ মিলিমিটার, মে মাসে ৩৬৩ মিলিমিটার, জুন মাসে ৩৭৮ মিলিমিটার, জুলাই মাসে ২৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে আগস্টে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে। তবে ২০২১ সালে দিনাজপুরে ১ হাজার ৭৫৪ মিলিমিটার, ২০২২ সালে ১হাজার ৭৩০ মিলিমিটার, ২০২৩ সালে ১হাজার ৯৫৯ মিলিমিটার এবং ২০২৪ সালে ১হাজার ৬৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করে সার প্রয়োগ করছেন। অনেকে প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৃষ্টি হওয়ায় কম খরচে সেচবিহীন আমন ধান চাষের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক রাশেদুজ্জামান বাপ্পি বলেন, “চলতি আমন চাষ মৌসুমে ১ একর জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের আমন ধান চাষ করছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় চিন্তিত ছিলেন। তবে প্রতিক্ষিত বৃষ্টি হওয়ায় চারা রোপণ শুরু করেছেন।

একই গ্রামের কৃষক মামুনুর রশিদ জানান, “কৃষকরা মূলত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই আমন ধান চাষ করে থাকেন। দেরিতে হলেও বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পরিমাণ মত পানি জমায় আমন চারা রোপণের উপযোগী হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান বলেন, চলতি আমন চাষ মৌসুমে ফুলবাড়ীর পৌর এলাকাসহ ৭টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতির কারণে শুরুতে অনেকেই আমন চারা রোপণ করতে পারেননি। তবে শ্রাবণের মাঝামাঝি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমন চারা রোপণ কাজ শেষ হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: