সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ ওষুধের ওপর অতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভুগছেন তারা। এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশুদের মধ্যেও অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, স্থূলতা, অটিজম ও দাঁতের জটিলতার প্রবণতা বাড়ছে। এই বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে এসব অসংক্রামক ব্যাধি অনেকাংশে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ‘ওষুধের চেয়ে প্রতিরোধ শক্তিশালী’- এমন বার্তাই উঠে আসে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে।
সম্প্রতি বাংলাদেশস্থ আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের (এডব্লিউসি) উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ড. মজিবুল হক। তিনি তার নতুন বই ‘সুস্থতার মূলমন্ত্র’ উন্মোচন করেন। একই মঞ্চে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল হেলথ২৪-এর মোড়কও উন্মোচিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডব্লিউসির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন, আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মজিবুল হক বলেন, অতিরিক্ত পোল্ট্রি ডিম, দুধ ও মাংস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতিদিন অজান্তেই আমরা যে পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে নিচ্ছি, তার বড় অংশ আসছে এই খাবারগুলো থেকে। ফলে অন্ত্রের উপকারী জীবাণু ধ্বংস হচ্ছে, আর শরীর রোগে ভুগছে।
প্রাকৃতিক খাদ্যের দিকে ঝুঁকে শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেতে, আর তেল, চিনি ও লবণ কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই অসংক্রামক ব্যাধির নিয়ন্ত্রণ
স্বাস্থ্য সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, চিকিৎসা খরচ কমাতে হলে আমাদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকে যেতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপনই দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।