শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
সাভারের অপরাধ রাজ্যে আবির্ভাব হয়েছে নতুন সম্রাট মোশারফ হোসেন মুসার। চার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন ত্রাসের রাজত্ব। এক সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলা মুসা এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় মেতে উঠেছেন চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।
আওয়ামী লীগ আমলে মুসা ও তার চার ভাই সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমরের সঙ্গে লিয়জোঁ করে চলতেন। সে সময়ও চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতেন মিলেমিশেই। ৫ই আগস্টের পর রাজিব-সমর দুই ভাইয়ের সেই মাফিয়াতন্ত্র এখন পাঁচ ভাইয়ের দখলে।
মুসাবাহিনীর চাঁদাবাজি আর অপরাধের মূল ক্ষেত্র সাভারের হেমায়েতপুর। অভিযোগ আছে, হেমায়েতপুরের ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড, বাজার ঘাট, গার্মেন্টসের ঝুট, ডিস-ইন্টারনেট, ময়লা ও হাউজিং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মুসারবাহিনী। এর মধ্যে গার্মেন্টসের ঝুট নিয়ন্ত্রণ করেন মুসার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম। অন্য ভাই রাসেল হাসান ও রাকিব হাসানের নিয়ন্ত্রণে ফুটপাত, ট্রাক-সিএনজি স্ট্যান্ড ও ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসা।
হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্কুল মার্কেটসহ সড়কের দুপাশে প্রায় দুই হাজার ভাসমান দোকান রয়েছে। এসব প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ২শ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয় মুসাবাহিনীর নেতৃত্বে। মাসে গিয়ে যা দাঁড়ায় আড়াই কোটি টাকার ওপরে।
মুসার অপকর্মের সেল্টার দিচ্ছেন তার আরেক ছোট ভাই হেমায়েতপুর এলাকার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান। মুশা বাহিনীকে কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বাঁধা দিলে গুলি করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় হাত-পা। কখনও আবার চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়।
অপকার্মের দায়ে সাভারের তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির পদ থেকে মুসাকে বহিষ্কারও করেছে বিএনপি। এরপরও থেমে নেই তার অপকর্ম। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নানা রকম হুমকি-ধামকি দেন মুসা।
একাধিক মামলাও রয়েছে মুসার নামে। পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজরা যে দলেরই হোক না কেন কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
মুসাবাহিনীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা । তাদের দাবি, মুসাবাহিনীর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।