সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কোহলির নতুন বিশ্বরেকর্ড সুর নরম করে ট্রাম্প বললেন, চুক্তিতে তাড়াহুড়ো নয় বরিশালে মাদকাসক্ত ছেলের দেওয়া আগুনে পরিবারের স্বপ্ন পুরে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি উজিরপুরে শিশুদের স্বপ্নচিত্র অঙ্কন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে উৎসাহমূলক উপহার বিতরণে- এমপি পরিবহন গুলোকে নিয়ম মেনে রাস্তায় চললে নিরাপদে ঈদ যাত্রা সার্থক হবে – সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জেলা পর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ ইতনা গণহত্যার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে লোহাগড়ায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে নদীভাঙন: বারবার নিঃস্ব নদীতীরের মানুষ

রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও জিঞ্জিরাম নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতি, আবাদি জমি ও স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে হাজারো পরিবার।

রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বিধবা নাছিমা বেওয়া বলেন, “নদীর ভাঙনে বাড়িঘর সব গেছে, অন্যের জমিতে কোনোরকমে আছি।” একই গ্রামের ময়না বেগম জানান, “পলিথিনে ঘর বানিয়ে নদীর ধারে থাকছি, জায়গা থাকলে তো ওখানে যেতাম।”

চরশৌলমারী ইউনিয়নের সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মমিন জানান, গত ছয়-সাত মাস ধরে রৌমারী, বন্দবেড় ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন চলছে। এতে দুই হাজার পরিবার গৃহহীন এবং আড়াই হাজার একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে, কৃষিজমি বিলীন হয়েছে ১৫৩ হেক্টর। জেলার প্রায় ৫০টি স্থানে এখন ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ৩৫টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলছে। রৌমারী ও রাজিবপুরে ৯১২ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান।

নদী ও পানি বিষয়ক সংগঠন ‘রিভারাইন পিপল’-এর মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, “অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও উজানে বাঁধ না থাকা নদীভাঙনের মূল কারণ। স্থানীয়ভাবে বাঁশের বান্ডেলিং করে নদীর স্রোত ঘুরিয়ে দিলে ভাঙন অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।”

ভাঙনে সব হারানো নদীপাড়ের মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। নতুন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে তারা—আর নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে গোটা জনপদের।


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: