রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খুব শিগগিরই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। লক্ষ্মীপুরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ভুলুয়া নদী ও রহমতখালী খাল পুনঃখননে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী এ্যানি বলেন, লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি বৃহত্তর নোয়াখালীর আওতায় একটি নতুন প্রকল্প—ভুলুয়া নদী খনন এবং রহমতখালী খাল পুনঃখনন। আমরা যদি এ প্রকল্পটি হাতে নিতে পারি, তাহলে লক্ষ্মীপুরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার ব্যাধি এবং মানুষের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে। এ কাজটি খুব দ্রুত শেষ হবে—তা নয়; এর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণের ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।
তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী ১৮০ দিনের খাল খনন প্রকল্পে সর্বোচ্চ যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব। খুব শিগগিরই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। এর আওতায় লক্ষ্মীপুর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নদীভাঙন বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন রোধে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করেছি। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের কোথায় কোথায় নদীভাঙন হচ্ছে—যেমন মেঘনা নদীর পাড়ে, রহমতখালী খালের পাড়ে—সেসব জায়গায় সমীক্ষার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবকিছু যেন ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। কারণ এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, যা পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীপুর দীর্ঘদিন অবহেলিত ও বঞ্চিত এলাকা ছিল। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। এ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমাদের লক্ষ্মীপুরকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। নির্বাচনের সময় গণসংযোগে গিয়ে মানুষের প্রধান দাবি ছিল রাস্তা ও জলাবদ্ধতা নিরসন। বিভিন্ন কারণে অনেকেই বঞ্চিত ছিলেন। আমরা নতুন লক্ষ্মীপুর গড়ে তুলতে চাই।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দ্রব্যমূল্য বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে কেবিনেট মিটিং করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রায় নেই বললেই চলে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ্যানি বলেন, সারা দেশে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। লক্ষ্মীপুরেও নেই।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরে এটিই তাঁর প্রথম সফর। সকালে তাঁকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাছানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টুসহ অনেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।