রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে “নারীর নিরাপত্তা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে নারী উন্নয়ন শক্তির প্রশিক্ষণ কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটির আয়োজন করে নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস), ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এফসিএইচডি), ইয়াং উইম্যান ফর ডেভেলপমেন্ট রাইট এন্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি) এবং ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এম্প্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিডব্লিউইএবি)।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক এবং ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এম্প্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি ড. আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, দেশে নারীর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে নারী উন্নয়ন, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আইনি সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ না করলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।
ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এফসিএইচডি)-এর সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয় নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
ইয়াং উইম্যান ফর ডেভেলপমেন্ট রাইট এন্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি)-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, তরুণ নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, তরুণ নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এম্প্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিডব্লিউইএবি)-এর সেক্রেটারি জেনারেল নাসিমা খান বলেন, গৃহশ্রমিকসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে কর্মরত নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ মিতা রহমান বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়তা বৃদ্ধি করলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারসংযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা নারীর উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের কাছে নিম্নলিখিত ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন—
১। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে।
২। নারীর নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।
৩। নারীদের জন্য প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
৪। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, বাজারসংযোগ ও ব্যবসায়িক সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৫। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৬। গৃহশ্রমিকসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের আইনি স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৭। নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৮। গ্রামীণ নারীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
৯। নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
১০। নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।