বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
সরকারি সিদ্ধান্তহীনতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং চিঠিপত্র চালাচালির পথ পেরিয়ে দীর্ঘ ৪৬ বছর ঝুলে থাকার পর দিনাজপুরের ফুলবাড়ী হাউজিং এস্টেট (উপশহর) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপশহরের জন্য অধিগ্রহণকৃত ১১ দশমিক ৬৯ একর জমি সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জমিটি হস্তগত হওয়ার পর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। দ্রæততম সময়ের মধ্যে লটারির মাধ্যমে উপশহরের প্লাট বরাদ্দ দেওয়া কার্যক্রম শুরু করা হবে এমনটাই বলছেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন ফুলবাড়ী থানাকে মহকুমা (সাব-ডিভিশন) করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে আবাসন সৃষ্টির লক্ষ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১১ দশমিক ৬৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে ‘উপশহর প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পে মৃত সুলতান হোসেন ১১২ শতাংশ, মৃত দেলোয়ার হোসেনের ৭৫ শতাংশ জমি ছাড়াও মৃত রহমতুল্লাহ, মৃত সিদ্দিক মিয়া, মৃত আব্দুল জব্বার, মোন্নাফ কমিশনার, মৃত জুবু উদ্দিনসহ অনেকের কাছ থেকে ১১ দশমিক ৬৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমির মূল্য বাবদ জমি মালিকদের সেই সময় ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৬০ টাকা পরিশোধও করা হয়।
জমি অধিগ্রহণের পর ১৯৮০ সালের দিকে ৯১টি প্লট, রাস্তা এবং বিদ্যুৎ-সংযোগের কাজ শুরু হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ১৯৮৪ সালে পুরো প্রকল্পটি থমকে যায়। এতে লোকসানের মুখে পড়ে প্রকল্পটি। কিছু জমি বেদখল হয়ে গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে এবং কিছু চুরিও হয়ে গেছে। রাস্তগুলোও ভেঙেচুরে খানাখন্দকসহ বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।
প্রবীণ শিক্ষক নাজিম উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘৪৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উপশহর এখন নতুন রূপ পাওয়ার অপেক্ষায়। কৃষিজমির অপচয় রোধ এবং আবাসন সংকট নিরসনে দ্রæত বাস্তবায়নই হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তথ্যমতে, গত ৪৬ বছরে অধিগ্রহণকৃত ১১ দশমিক ৬৯ একর জমিতে চাষাবাদ করা হলে প্রায় ৩ হাজার ৯৮ টন ধান উৎপাদন হতো, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. খুরশিদ আলম মতি বলেন, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার ফুলবাড়ী থানাকে সাব-ডিভিশন (মহকুমা) করতে মন্ত্রিসভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এরই প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী হাউজিং এস্টেট (উপশহর) প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি থমকে যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্রæত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান করা হোক।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দিনাজপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল কুমার মন্ডল জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ফুলবাড়ী উপশহরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুরো এলাকা সার্ভে করে নকশা অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখন রাস্তা কিছুটা উঁচু করতে হবে। অনেকটা কাজ এগিয়েছে। আমরা দ্রæতই প্ল্যানিং কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী প্লট করে লটারির মাধ্যমে তা বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।