শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজার (বিএস), বর্তমানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) জন্য নির্মিত বিএস কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব কোয়ার্টার এখন মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে ১৯৬৫ সালের দিকে গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন বাদে বাকি ইউনিয়নগুলোতে বীজাগার নির্মাণ করা হয়। বীজাগারগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল জনশূন্য ও নির্জন স্থানে। সে সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত ব্লক সুপারভাইজাররা (বিএস) এসব বীজাগার থেকে বিভিন্ন ফসলের বীজ সরবরাহ করতেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার কৃষিসেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৯৮০ সালের দিকে বীজাগারগুলো সংস্কার করে দুইজন বিএস-এর পরিবারসহ বসবাসের উপযোগী করে ভবন নির্মাণ করে। ভবনগুলো ৫০ টাকা ভাড়ায় বিএসদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কয়েকজন বিএস পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করলে চুরি ও ডাকাতির শিকার হয়ে সর্বস্ব হারান। ফলে তারা কোয়ার্টার ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
এরপর থেকে পৌরসভার একটি কোয়ার্টার ছাড়া বাকি ছয়টির কোনোটি আর বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় কোয়ার্টারগুলোর দরজা-জানালা, ইটসহ বিভিন্ন উপকরণ খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে সেগুলো ভগ্নদশায় পড়ে আছে। ফলে এসব পরিত্যক্ত কোয়ার্টার এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, কোয়ার্টারগুলো যেসব স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, পরিত্যক্ত থাকায় সেগুলো এখন বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। পুনরায় সংস্কার করেও সেখানে নিরাপদে বসবাস করা সম্ভব হবে না। তাই তাদের উপজেলা সদরে ভাড়া বাসায় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
পৌর এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি যে বিএস কোয়ার্টারে বসবাস করছেন সেটিও পরিত্যক্ত ও অনুপযোগী ভবন হিসেবে ঘোষিত। ইতোমধ্যে ভবনের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং ইট-খোয়া খুলে যাচ্ছে। তবুও কাজের প্রয়োজনে সেখানে থাকতে হচ্ছে।
উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার বাসিন্দা বিপুল চৌধুরী জানান, রাজারামপুরের বিএস কোয়ার্টারের দরজা-জানালা, কাঠ ও রড দুর্বৃত্তরা খুলে নিয়ে গেছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। কোয়ার্টারের ভেতরে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছে। প্রাচীর ভেঙে সেখানে বিভিন্ন গাছপালা জন্মেছে। নির্জন হওয়ায় সেখানে বসবাস করা সম্ভব নয়।
এলুয়ারি ইউনিয়নের খাজাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আগে এখানে বিএস কোয়ার্টার ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ ভগ্নদশায় পরিত্যক্ত। কেউ সেখানে থাকেন না। তবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাস করলে কৃষকরা আরও বেশি কৃষিসেবা পেতেন।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টারগুলোতে যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাকিন বলেন, বিএস কোয়ার্টারগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।