বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
কেরামত আলী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড পোশাক কারখানায় পানি পান করে প্রায় শতাদিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে টিফিনের সময় পানি খাওয়ার পরপরই শ্রমিকদের মধ্যে বর্মি, তীব্র পেটব্যথা, মাথাঘুরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে কারখানা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেসম্যান কারখানার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অসুস্থ শ্রমিকরা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় , বৃহস্পতিবার সকাল ৮ ঘটিয়ায় শ্রমিকরা পানি পান করলে পানি খাওয়ার মাত্র ৫- ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রথমে কয়েকজন শ্রমিকদের মধ্যে পেটব্যথা ও বর্মি করতে থাকে। এরপর সকাল ১০ ঘটিকায় শ্রমিকরা আরো বেশি অসুস্থ হলে শ্রমিকদের কারখানার কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ও প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আশপাশের ক্লিনিক ও গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে শ্রমিকদের স্বজনরাও হাসপাতালে ভিড় করেন।
মিতু, শাহনাজ, সাবানা, মাহমুদা,শিমু আক্তার বলেন, পানিটা খেতেই কেমন পচা গন্ধ লাগল। ৫ মিনিট পর পেটের ভিতর মোচড় দিয়ে ব্যথা শুরু হলো। বমি করতে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। এখনও শরীরে শক্তি পাচ্ছি না। কয়েকদিন ধরেই পানির স্বাদ নষ্ট ছিল। ম্যানেজমেন্টকে বলেও লাভ হয়নি। আজ এত বড় বিপদ হয়ে গেল।
ড্রেসম্যান পোশাক কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার কাজী শফিক বলেন, কারখানার আশেপাশের এলাকায় শ্রমিকরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। তারা আজ সকাল বেলা কী ধরনের পানি ও খাবার খেয়েছে আমার জানা নেই। আমাদের কারখানার ডিপ টিউবওয়েল ও ফিল্টারের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল আবাসিক অফিসার মুনিয়া সুলতানা বলেন, সকাল থেকে বেশকিছু শ্রমিক বমি, পেটব্যথা ও মাথাঘুরা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে ফুড পয়জনিং বা দূষিত পানিবাহিত রোগ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবাইকে স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।কিছু শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ৩০-৪০ জনকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কয়েকজনকে রেফার্ড করে গাজীপুর শহীদ তাইজুদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, কারখানাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।