শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণে জামায়াত নেতাকর্মীদের উৎসর্গিত হতে হবে: ডাঃ আব্দুল্লাহ মুঃ তাহের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কাজের প্রত্যয় কালিগঞ্জ থানায় নতুন ওসি শহিদুল ইসলাম “মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ০৫ জন গ্রেফতার” নড়াইলে অধ্যক্ষ শা ম আনয়ারুজ্জামানের স্মরণে সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাফিনিয়ার চোট নিয়ে যা জানা গেল ইরান যুদ্ধে চীনের কূটনৈতিক জয়? উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে: রিজভী মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের নির্মূলের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর স্বপ্নযাত্রা- মো: হাছান উদ্দিন মিয়া

ইরান যুদ্ধে চীনের কূটনৈতিক জয়?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কয়েক মাস পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও ক্ষমতায় টিকে রয়েছে ইরানের সরকার। আর এই পরিস্থিতিতে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছে চীন।

যুদ্ধের শুরুতে বেইজিংয়ের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকারও ভেনেজুয়েলার মতো বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। তবে প্রায় চার মাস পর চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে চীন নিজেকে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

যদিও সমঝোতা অর্জনে সরাসরি চীনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চার দফা শান্তি প্রস্তাবসহ যুদ্ধ বন্ধে চীনের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চীনের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংঘাত চলাকালে চীন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং পরিস্থিতি সমাধানে সহায়তার চেষ্টা করেছে।

যুদ্ধ চলাকালে একদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে বেইজিং, অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানি তেল আমদানিও অব্যাহত রেখেছে। একই সময়ে সংঘাতের উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রেখেছে তারা।

সংঘাত ঘিরে চীনে আরেকটি বিতর্কও শুরু হয়েছে। দেশটির কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সুয়েজ মুহূর্ত’ হয়ে উঠেছে? অর্থাৎ, এটি কি বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন প্রভাব হ্রাসের নতুন ইঙ্গিত?

তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চীনকে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিতে পরিণত করবে না। বরং ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধান দেওয়ার সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে বেইজিংয়ের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা।

চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার যে নীতি বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করছে, ইরান যুদ্ধের পর তা আরও বেশি দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: সিএনএন


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: