রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
স্টাফ করসপন্ডেন্ট নড়াইল: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই কেয়ার কালনা-লাহুড়িয়া মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ৯০ শতাংশ জমিতে এক হাজার পিলারে শোভা পাচ্ছে ১২ হাজার সবুজ ড্রাগন গাছ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ জমিতে বেড়ে উঠেছে ১২ হাজার ড্রাগন গাছের বিশাল সবুজ বাগান। এখানে রেড ভেলভেট, আমেরিকান বিউটি, ভিয়েতনাম রেড, ভিয়েতনাম হোয়াইট, পলোরা জাতের ড্রাগন গাছ। লোহাগড়া পৌরসভার শিকদার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. আনিসুর রহমান গড়ে তুলেছেন এ ড্রাগন বাগান। ড্রাগন চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই উদ্যেক্তা।
লোহাগড়া পৌরসভার শিকদার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ড্রাগন বাগানের মালিক মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমি বছরে কানিতে এক হাজার টাকা হিসেবে ১০ বছরের জন্য উপজেলার চাচই কেয়ারে ৯০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে ৪ শত পিলারে ৭ হাজার চারা দিয়ে ২০২৪ সালে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষের যাত্রা শুরু করি। এ ড্রাগন বাগানে বর্তমান পাঁচ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আমি কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় গড়ে তুলি এ ড্রাগন বাগান। প্রথম বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকার এবং দ্বিতীয় বছর আমি প্রায় ৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। আগামীতে এটা কয়েকগুণ বাড়বে বলে আমি আশা করছি। এতে কোনো ঔষধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র বছরে ১ থেকে ৩ বার সার প্রয়োগ করতে হয়। মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। এখন আমার বাগানে গড়ে প্রতি মাসে এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশত কেজি ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়। বাগানেও ড্রাগনের ফলন ভালো এসেছে। এ ফল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা পাইকারি বিক্রি হয়। এ ফল লোহাগড়া বাজার, কালিয়া বাজার,নড়াইল সদরসহ ভাটিয়াপাড়া, কাশিয়ানী, মাগুরা ও যশের সদরে বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, একবার রোপণ করা গাছ থেকে টানা ২৫ থেকে ৩০ বছর ফল পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষাবাদের পর থেকে লাভবান হচ্ছেন তিনি। আনিস এখন স্বপ্ন দেখছেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার।
উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ও সুশান্ত বলেন, চারা লাগানোর এক বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাজারে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই সহজে এ ফল চাষ করা যায়। লোহাগড়া পৌরসভার শিকদার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ড্রাগন বাগান মালিক মো. আনিসুর রহমানের বাগানে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। অল্প সময়ে বাগানে ফল আসা শুরু করে, তাই এটি একটি লাভজনক চাষ। নতুন কেউ এর চাষ করতে চাইলে আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবো।
বাগান পরিচযার্কারী শ্রমিক মতিয়ার রহমান বলেন, এই বাগানের শুরু থেকে আমি কাজ করি। খুব সহজ পদ্ধতিতে বাগান তৈরি করা যায়। এটা খুব বেশী পরিশ্রমের কাজ না। তবে সবসময় খেয়াল রাখতে হয় যেন পোকামাকড় বা রোগ বালায় গাছের কোন ক্ষতি করতে না পারে। জেলার সবচেয়ে বড় এই বাগান দেখতে প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে আসছেন উৎসাহীরা। সবুজে সবুজে ছাওয়া বিশাল এই বাগান থেকে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন তারা।
এদিকে, ড্রাগন বাগানটি ঘুরে দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজনের আগমন ঘটে। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ঘুরতে আসেন অনেকে। বাগানে এসে ছবিও তোলেন। বাগানে ঘুরতে আসা লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাগানটির কথা অনেকদিন ধরে শুনছি। আজ ঘুরতে এসে খুব ভালো লেগেছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনমুন সাহা বলেন, ড্রাগন একটি বিদেশি ও জনপ্রিয় ফল। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, লোহাগড়া উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে ছোট বড় ৪ টি ড্রাগন বাগান রয়েছে। কৃষি বিভাগ সবরকমের সহযোগিতা করে আসছে, ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।