শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তবে তাঁর নাতিদীর্ঘ এই ভাষণের মূল বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় তাঁর চোখে থাকা একটি কালো সানগ্লাস। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাধারণত কমাণ্ডিং ও আনুষ্ঠানিক পোশাকের রীতি থাকলেও, নেপালের এই শীর্ষ নেতা তাঁর চিরচেনা স্টাইল বজায় রেখে কালো স্যুট এবং ঐতিহ্যবাহী নেপালি টুপির সঙ্গে কালো চশমা পরেই পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন। জনসমক্ষে তাকে খুব কম সময়ই এই চশমা ছাড়া দেখা যায় এবং নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চেও তিনি এই পরিচিত রূপটিই ধরে রাখেন।
জাতিসংঘের সেই সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বালেন্দ্র শাহ বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে জলবায়ু সংকট কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত মেনে চলে না এবং এর বিরূপ প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অসমভাবে ও নির্মমভাবে সহ্য করতে হচ্ছে। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় কেবল একটি দেশের একক সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র পৃথিবীর জন্যই এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের জোরালো দাবি জানান।
নেপালের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনসম্মুখে এই স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচিতি ও ইমেজ গড়ে তুলেছেন। বিদেশি কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতোদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিতই এই সানগ্লাস পরে উপস্থিত হন। তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কিংবা ঘরোয়া ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি এই চশমা খুলে রাখেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করার আগে তিনি একজন জনপ্রিয় র্যাপার এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময় থেকেই জনসম্মুখে তাঁর এই সানগ্লাস পরিধানের অভ্যাস তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর প্রথা ভাঙার স্বাধীন চেতনার প্রতীক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
রাজনীতির মাঠে এই সানগ্লাস পরা নিয়ে এর আগে নেপালের জাতীয় সংসদেও বেশ ভালো রকমের বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁর এই আচরণকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করলে তিনি চিকিৎসকের ছাড়পত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট স্পিকারের দপ্তরে জমা দেন। চিকিৎসকদের মতে, চোখের একটি বিশেষ চিকিৎসাজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে সব সময় এই সানগ্লাস পরে থাকতে হয় এবং এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও রয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ইমেজের পাশাপাশি এই শারীরিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তিনি বিশ্বমঞ্চ থেকে শুরু করে সব ধরনের কূটনৈতিক বৈঠকে সানগ্লাসটি ব্যবহার করে আসছেন।
নেপালের এই নেতার সংবাদ সম্মেলন বা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে কথা বলার প্রবণতা খুবই কম, তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই সরাসরি জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ফলে তাঁর এই কালো সানগ্লাসটি ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এমনকি দেশটির জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাঁর ব্যবহারের আদলে তৈরি বিশেষ মডেলের সানগ্লাসও বিক্রি হয়, যা তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ ফ্যাশন আইটেম হিসেবে সমাদৃত। এই সমস্ত ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অন্যতম আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।