বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে লক্ষাধিক আবেদন, লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৬০ হাজার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের আগে প্রয়োজন সম্যক পর্যালোচনা অস্ত্রোপচারের পর নিজের অনুভূতি জানালেন তানিয়া বৃষ্টি বিকেএসপিতে জুনিয়র টিটি দলের প্রশিক্ষণ শুরু সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদের আহ্বান জামায়াতের দক্ষ জনশক্তি গড়তে দেশে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিএনপির সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, কমলো ৫০ শতাংশ লাইট-এসি ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানোর চেষ্টা আটকে গেল মার্কিন সিনেটে সায়েদাবাদে মাদক কারবারির গুলিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক গুরুতর আহত

কবি আল মাহমুদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক :: সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের আজকের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইলের মোল্লাবাড়িতে জন্ম নেন এই কবি। যার পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার পিতার নাম আব্দুর রব মীর ও মা রৌশন আরা বেগম। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দির সাধনা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তার লেখালেখি শুরু।

সংবাদপত্রে লেখালেখির এক পর্যায়ে ১৯৫৪ সালে আল মাহমুদ ঢাকায় আসেন। কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লিখতে থাকেন। পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নেন। পরে ১৯৫৫ সালে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের পর দৈনিক গণকণ্ঠ প্রকাশিত হয় তারই সম্পাদনায়। এ সময় এক বছরের জন্য কারাবন্দি থাকতে হয় তাকে।

আল মাহমুদের প্রথম বই ‘লোক লোকান্তর’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। দ্বিতীয় বই ‘কালের কলস’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। এ দুটি কবিতার বইয়ের জন্য তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। মুক্তিযুদ্ধের পর গল্প লেখায় মনোযোগী হন আল মাহমুদ। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্পের বই ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। পরে তিনি পরিচালক হন। ১৯৯৩ সালে তিনি অবসর নেন।

সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ এবং কলকাতার ‘নতুন সাহিত্য’, ‘চতুস্কোণ’, ‘ময়ূখ’, ‘কৃত্তিবাস’ ও ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা ও কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’, ‘কাবিলের বোন’, ‘উপমহাদেশ’, ‘ডাহুকি’, ‘আগুনের মেয়ে’, ‘চতুরঙ্গ’ ইত্যাদি। ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ তার আত্মজীবনী গ্রন্থ। ছড়া রচনাতেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- সবকিছুই তার ছড়ায় উঠে এসেছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ঢেউ তুলছে।

আল মাহমুদ তার কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জয় বাংলা পুরস্কার, হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, কাজী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, কবি জসীমউদ্‌দীন পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
এসএ/


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: