শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বিদেশি ঋণ আর সহায়তা জাতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেবে না ফের পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার লড়াই কঠিন করে তুলল রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট মার্চে সড়কে ঝরেছে ৫৩২ প্রাণ: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শোক কাটিয়ে শুটিংয়ে ফিরলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন ইরানি প্রতিনিধি দলের ৭১ জন সদস্য কালিয়াকৈর চন্দ্রা এি মোড়ে তাকওয়া পরিবহন মরণযান ও জ্যাম সৃষ্টির মুল কারণ নড়াইলের কালিয়ায় অবৈধভাবে মজুদ ৪০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, জরিমানা ও আটক ১ বরিশালে স্বামীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে স্ত্রী-সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের দাপট কমার কারণ জানালেন রোমারিও

কথাসাহিত্যিক জগদীশচন্দ্র গুপ্তের জন্মদিন

নিউজ ডেস্ক :: ভারত উপমহাদেশের অন্যতম বাঙালি ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার জগদীশ চন্দ্র সেনগুপ্তের (জগদীশ গুপ্ত) জন্মবার্ষিকী আজ। মূলত কথাসাহিত্যিক হলেও সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে কবিতা লিখেছেন ও একটি কবিতা সংকলনও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

তিনি ১৮৮৬ সালের ৫ জুলাই বাবার কর্মস্থল কুষ্টিয়া জেলার আমলাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার খোর্দ মেঘচারমি গ্রামে। বাবা কৈলাশচন্দ্র গুপ্ত কুষ্টিয়া আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন।

কলকাতা সিটি কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯০৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর কলকাতা রিপন কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৭ সালে এফ.এ পরীক্ষা দিয়ে কলেজের পাঠ ত্যাগ করেন। পরে কলকাতা কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে শর্টহ্যান্ড ও টাইপরাইটিং শিক্ষা গ্রহণ করেন।

বীরভূম জেলার সিউড়ি জজকোর্ট এবং উড়িষ্যার সম্বলপুরে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের অফিসে টাইপিস্টের চাকরি করেন কয়েক বছর। পরবর্তীতে কলকাতার ‘জাগোস ইঙ্ক’ নামের ফাউন্টেন পেনের কালি তৈরির একটি কারখানা খোলেন। ব্যবসায় উন্নতি করতে না পেরে ১৯২৭ সালে বোলপুরের চৌকি আদালতে আবারো টাইপিস্টের চাকরিতে যোগদান করেন। সেখানে একটানা ১৭ বছর চাকরি করার পর ১৯৪৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর কুষ্টিয়ায় বসবাস করতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর কুষ্টিয়া ছেড়ে কলকাতায় চলে যান ও সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

তিনি তার সাহিত্যে প্রাচীনতাকে ত্যাগ করে এক নতুন ভাবনা চিন্তার জন্ম দিয়েছেন। তার রচনায় এসেছে ধারালো তীক্ষ্ণতা; যা প্রচলিত ভাবকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রবল আক্রমণে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। প্রচলিত মূল্যবোধের আস্থার অভাব, মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তি তার রচনাকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হলেও সাহিত্য জীবনের শুরুতে কবিতা লিখেছেন ও একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছেন। তার লেখা তখনকার বিখ্যাত পত্রিকা ‘বিজলী’, ‘কালিকলম’, ‘কল্লোল’ প্রভৃতিতে প্রকাশিত হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক তিনি। গল্প ও উপন্যাসের ক্ষেত্রে প্রকাশভঙ্গির স্বাতন্ত্র্যের জন্যে সাহিত্যিক মহলে বিশিষ্ট স্থান পেয়েছিলেন।

গভীর জীবনবোধ, সুঠাম কাহিনিবিন্যাস ও চরিত্রচিত্রণের নৈপুণ্যে তার ছোটগল্প সমৃদ্ধ হয়েছে। জগদীশ গুপ্তের গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে- বিনোদিনী, রূপের বাহিরে, শ্রীমতি, উদয়লেখা, শশাঙ্ক কবিরাজের স্ত্রী, মেঘাবৃত অশনি, স্বনির্বাচিত গল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- অসাধু সিদ্ধার্থ, লঘুগুরু, দুলালের দোলা, নিষেধের পটভূমিকায়, কলঙ্কিত তীর্থ, রোমন্থন ইত্যাদি।

জগদীশচন্দ্র গুপ্ত ১৯৫৭ সালের ১৫ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
এসএ/


Classic Software Technology
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: