শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন ময়লা আবর্জনা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: বিশ্বায়নের এই যুগেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এমন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র কিংবা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। নামেই ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হলেও বাস্তব অবস্থা চোখে না দেখলে বলে বুঝানো যাবে না। তেমনই একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিত্র না ছবিতে ফুটে উঠছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকার রাজার বাজার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে।

এখানে নেই কোন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বরং আবর্জনা অপসারণের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নেই সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা যে যার মত যেখানে সেখানে ময়লার স্তুপ ফেলে রেখেছে। কেন্দ্রটিতে গো-মুত্রের দূর্গন্ধে ভরপুর। ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির স্বাস্থ্যকর্মী এস.এ.সি.এম মোঃ সিরাজ উদ্দিন কেন্দ্রটির উপরের দু‘তলাতে তার পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে থাকেন।

সেখানে উঠলে দেখা যায় সে স্থানের পরিবেশ আরও ভয়াবহ। সম্পূর্ণরূপে অস্বাস্থ্যকর একটি পরিবেশে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। চোখে দেখলে মনে হবে এটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নয়, যেন ময়লা আবর্জনা নোংরা ও দূর্গন্ধের ভাগাড়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল ভবনের সামনে ঝকঝকে পরিস্কার হলেও ভবনে প্রবেশের বাম পাশের ড্রেনে গো-মুত্রের ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী সিরাজ উদ্দিন, কেন্দ্রটিতে আশা রোগীদেরকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন যে স্থানে বসেন, টিক এর পাশের দেওয়ালের বাইরের দিক থেকে আসে গো-মুত্রের দুর্গন্ধ, নাক বন্ধ করে রোগীরা সেবা নিতে হয়। উপ- স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ড্রেনগুলোর পানিতে মুত্র বর্জ্য ও ময়লা আবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রটির সমস্ত পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছে। ভবনের দু‘তলাতে কর্মরত উপ-স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিবারের লোকজনদের নিয়ে থাকার জন্য রয়েছে বসবাসের স্থান। সে স্থানেও রয়েছে আবর্জনা ময়লা ও দূর্গন্ধযুক্ত। বাথরুম টয়লেটের অবস্থা আরও শোচনীয়।

এখানে রোগীরা আসে রোগ সারাতে, কিন্তু রোগ সারা তো দূরের কথা রোগের উপসর্গ আরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি রোগীদের সাথে আসা সুস্থ্য স্বজনরাও অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারেন। এসব মিলিয়ে চুনারুঘাটের রাজার বাজার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন ময়লা আবর্জনা ও দূর্গন্ধের ভাগারে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আয়নত প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বর্গ কি:মি। এখানের জনসংখ্যা পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজারের মত।

এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নতুন ভবন সম্ভবত ১৯৮৫ সালে তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৮১ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয়। প্রতিদিনই ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক রোগী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজার বাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসে। এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন ডাক্তারসহ চারজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে শুধুমাত্র (এস.এ.সি.এম) এর মো. সিরাজ উদ্দিন নামের একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। সে ঐ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোন সময় ডাক্তার, কোন সময় স্বাস্থ্যকর্মী আবার কোন সময় ওয়ার্ডবয়।

এব্যাপারে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজার ইউনিয়ন উপ- স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী (এস.এ.সি.এম) এর মোঃ সিরাজ উদ্দিন জানান, উপজেলা থেকে আমাদের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না থাকার কারনে লোক দিয়ে রেগুলার আশপাশের জঙ্গল, গাছ- গাছালী, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাতে পারি না।

মাঝে মধ্যে আমরা আমাদের নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে এগুলো পরিস্কার করাতে হয়। বিষ্টির কারনে বেশ কয়েকদিন যাবত ময়লা-আবর্জনাগুলো পরিস্কার করাতে পারি নাই। আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, আমাদের এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য নেই ফার্মাসিষ্ট, ঔষধ বিতরণকারী, নৈশ পহরী, সুইপারসহ পর্যাপ্ত স্টাফ। এখানে যখম, জ্বর, সর্দি ও কাশির রোগীসহ ৮০ থেকে ৯০ জন রোগীকে প্রতিদিন সেবা প্রদান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি