বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০১:২০ অপরাহ্ন

সম্পর্কের ঋতুস্রাব – আজমাইন ফায়েক আবির

ওষ্ঠে তোমার বিষন্নতার ছাপ
লোচন এঁকেছে মিথ্যে ভালো থাকবার প্রতিশ্রুতি
যবনিকার আড়ালে দ্যুতি খেলা করে;
ঝাঁকরা কেশ বলে এইতো ভালো আছি।
আদিম ভাল থাকা যাকে বলে এক বাক্যে
আরাধনা থেকে অতিসারল্য;
তা থেকে প্রতিমার মতো সাজ
কী জীবন হয় প্রতিমা দেবীর!
পূজো, ভোগ, বলী শেষে বিসর্জন
তথাকথিতদের অর্জন অর্ঘ্য হয়ে যায়
সভ্যতার গাত্রে
প্রতি রাত্রে তোমার পরিপূর্ণ হবার ক্ষুধা-
ঋতুস্রাবের মতোই যন্ত্রণা দেয়
ক্ষয় হতে হতে অক্ষয় হয়ে গিয়েছে তোমার চিত্ত
সেই অক্ষয় চিত্ত এখন ট্রামলাইনের মতোই কঠিন
কী দুর্বার ছিল তোমার প্রশস্ত বক্ষ!
প্রেম পেতে চাইতো প্রসূনের মতো;
মধুমাখা মলিন প্রেম
অথচ পেয়ে বসলে অবহেলা যেন
বেয়ে চলেছো তীক্ষ্ণ কন্টকের ভেলা
তুমি হয়ে বসলে শ্রীঘরে বন্দি বাহারি পাখি যার
গরূৎ হলো ধূসর অবশেষে
প্রমা ভেঙেছে তোমার; সেজন অট্টহাসি হেসে
তারপর বিরস জোছনা
ভাঙাগড়ার খেলায় নিয়তি জিতে গিয়েছে
তুমি ময়ূরাক্ষী থেকে রূপাজীবা বোনে গেলে
বুকে সযত্নে আঁচড় কাটা নেইলপোলিসের দাগ-
শার্টের বোতাম ছিঁড়ে জরাজীর্ণ
প্রত্যেকের প্রেমই তো ভিন্ন ভিন্ন
কারো প্রেম আভিজাত্যিক, কারো বা কম দামী
তবে কারো প্রেমই সস্তা নয়
তাঁকে নিয়ে লিখা কবিতার সংখ্যা সাতচল্লিশ;
অচিরেই বেড়ে উঠবে সংখ্যাটি
তবে আমার প্রতি তাঁর প্রেম
বাড়াবার কোনো অবকাশ নেই
ব্যক্তি কেন্দ্রিক এই প্রেম সন্তাপ দেয় ব্যাপক
প্রতারণার রূপক- রূপকার্থেই চমৎকার
ছেড়ে আসা অধিকার
ধরতে গেলেই মহাবিপদ, অদৃষ্টের চপট
রক্তিম রাঙা হলো মুখশ্রী
সামলে উঠতে পারেনি আঁখি
বিসর্জন দিয়েছে গ্যালনে গ্যালনে অশ্রু
এক ঝলক গন্ধ এসে কম্মিনকালে মারদাংগা
প্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়
যেন স্বাধীনতার আড়ালে শ্রীঘরে বসবাস
বাসের ভাড়া চাই হাফপাশ-
তেমনি প্রেমও চুক্তির টিকিট বিকোয়
যার পকেট যত ভারি, তার আছে তত নারী
নারী সঙ্গ আর কি
যার মেজাজ যত গরম, তার প্রেমিকা তত নরম
হুম ঠিক যেন ভালোবাসার কোলবালিশ
কবিতাদের চোখে একটিই নালিশ-
আমি সুদৃঢ়, সফল প্রেম রচতে পারলাম না
রাত ন’টার দিকে
কাব্যের পাতা জুড়ে প্রবল ঘুম
লজ্জায় ভারি হয়ে ওঠা চোখের পাতা
আজও হাতঘড়ি টির কাঁটা
সন্ধ্যা সাতটা সাতচল্লিশেই আটকে আছে
যেদিন আপনি আমায় পরিত্যাগ পত্র পাঠালেন
আমি সময় আটকে দিতে চেয়েছিলাম
আমার সেমিস্টার আপনার প্রফ;
দুটোর কোনোটিই আটকালো না
স্বেত শুভ্র সম্পর্ক হলো পূর্ণিমার মতো কালো
অমাবস্যার মতোই নিঃসঙ্গ
পরীক্ষার খাতায় ভুল করা অংক;
জীবনের খাতায়ও একটি ভুল হয়ে গিয়েছে
আর সেই ভুলটির নাম, আমাদের ভা-লো-বা-সা
পাঠকেরা পড়বে এই তামাশা
যেদিন ছাপা হবে।
সম্পর্কের ঋতুস্রাবের যন্ত্রণায় গরম জল
খুব করে চেয়েছি আমি
দূরের আলো মুখ ফিরিয়ে নেয়
আমায় নাকি বাকি জীবন অন্ধকারেই থাকতে হবে
ভৈরবে, কোন ট্রেনটি যেন যায়?
সেটির নিচেই কাটা পড়তে ভীষণ মন চায়
তাঁকেও চাইতো এই মন তীব্র ভাবে- তীব্রতর
জানালার ওপাশে তুমি কার হলে অতঃপর?

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি