শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

খুনিরা এখনও ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে রেখেছে: কাদের

নিউজ ডেস্ক : পনের ও একুশে আগষ্টের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খুনিরা তাদের ষড়যন্ত্রের জাল এখনও ছড়িয়ে রেখেছে। দেশ-বিদেশে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। তলে তলে প্রস্তুতি নিচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এদেশের রাজনীতিতে হত্যা-সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র আর সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার তাদের হাত ধরেই। এখনও তারা সেই অপচর্চা অব্যাহত রেখেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

কাদের বলেন, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। কারা ২১ আগস্টের বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল? সেদিন প্রাইম টর্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ এর বুলেট ২০০৪ সালে ফিরে এসেছে গ্রেনেড হয়ে।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে মধ্যযুগীয় কায়দায় ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটির’ কথা বলে যারা রাষ্ট্রয়ভাবে বৈধতা দিয়েছিল, তারা আজ অপপ্রচার চালায় দেশে ন্যায়বিচার নেই বলে। ন্যায়বিচার তো দূরের কথা, ২১ বছর তো আমরা বিচারই চাইতে পারিনি। সে অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হয়েছিল। তারা আজ মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার পর যখন জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিল, আলামত নষ্ট করেছিল- তখন তাদের ন্যায়বিচার কোথায় ছিল?

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। তাদের সময় পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মানুষকে লজ্জা আর হতাশার সাগরে ডুবিয়েছিল তারা। দুর্নীতির বরপুত্র হাওয়া ভবনের নামে প্রতিষ্ঠা করেছিল এক খাওয়া ভবন। কী খায়নি তারা? খাম্বা থেকে শুরু করে এতিমের টাকা পর্যন্ত খেয়েছে। আর আজ দুর্নীতির কথা বলে!’

তিনি বলেন, এদেশের রাজনীতিতে সততার উদাহরণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু পরিবার। শেখ হাসিনা যেমনি অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন, তেমনি যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারেও তিনি অপরাধীর দলীয় পরিচয় খোঁজেননি। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখেছেন।

বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আছেন বলেই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। জাতির কলঙ্ক মোচন হয়েছে। সেই আত্মস্বীকৃত খুনিরা শত আশ্রয়-প্রশ্রয়েও প্রটেকশন পায়নি জনতার কাছে। আদালতের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে খুনিরা। জনগণের ধিক্কার আর ঘৃণাই আজ খুনিদের প্রাপ্য। যারা লুকিয়ে আছেন তাদেরও ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে, ইনশাল্লাহ। ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।’

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক প্রমুখ।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগিতায়: